A cinematic close-up of an elderly hand illuminated by golden light, symbolizing the peaceful and melancholic final moments of life.

জীবন

মৃত্যুর সময় শেষ ভাবনা কি হবে?

অক্টোবর ২০২৫ · 9 মিনিটে পড়া
শেয়ার
A cinematic close-up of an elderly hand illuminated by golden light, symbolizing the peaceful and melancholic final moments of life.
মৃত্যু একা। পুরো জীবন মানুষের সাথে থাকলেও শেষ দরজাটা একাই পার হতে হয়। কাউকে নেওয়া যায় না, কিছু বহন করা যায় না।

মরার আগে মানুষ কী ভাবে, সেটা জানার কোনো উপায় নেই। কারণ যারা জানে, তারা বলতে পারে না। আর যারা বলতে পারে, তারা আসলে কিছুই জানে না।

একজন মারা যাচ্ছিল। বাইরে রোদ। সে বলল, বৃষ্টির শব্দ শুনছি, টিনের চালে পড়ছে। আরেকজন মরার মুহূর্তে একটা অচেনা নাম বলল — পরিবারের কেউ না, বন্ধু না, কেউ চেনে না। এই দুটো ঘটনা মাথায় রাখলে একটা সত্য স্পষ্ট হয়ে যায় — শেষ মুহূর্তটা নিজের না। মন সেখানে নিজের মতো যায়। কোথায় যায়, কেন যায়, কোনো হিসাব নেই।

সারাজীবন নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হয়। কী ভাবব, কী বলব, কীভাবে দেখাব। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এই নিয়ন্ত্রণ থাকে না। মন হয়তো চলে যায় এমন একটা বিকেলে, যেদিন কিছুই হয়নি। শুধু বসে ছিল, আকাশ দেখছিল। কোনো বড় ঘটনা না। কোনো স্মরণীয় দিন না। শুধু একটা সাধারণ মুহূর্ত।

এটা ভাবলে ভেতরে কিছু একটা নড়ে ওঠে।

মৃত্যু নিয়ে যত ভয় আছে, তার বেশিরভাগ আসলে মৃত্যুর ভয় না — বরং ছেড়ে যাওয়ার ভয়। প্রিয় মানুষ ছেড়ে যেতে হবে, এই ভয়। কিন্তু এই ভয়ের ভেতরে একটা সত্য লুকিয়ে আছে। ভয় লাগছে মানে ভালোবাসা আছে। ছেড়ে যাওয়া কষ্টের মানে পাওয়াটা সত্যিকারের ছিল। ভয় আসলে ভালোবাসার অন্য রূপ।

সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নটা হলো — আজ রাতে মরলে কোন আফসোস থাকত? যা বলা হয়নি? যা করা হয়নি? যে মানুষটাকে জানানো হয়নি যে সে কতটা গুরুত্বপূর্ণ? এই প্রশ্নের উত্তর জানলেই বোঝা যায় এখন আসলে কী করা দরকার। মৃত্যু এভাবেই শিক্ষক — সে দেখিয়ে দেয় কোনটা গুরুত্বপূর্ণ, কোনটা আসলে কিছুই না।

একটা শিশু স্বপ্নে দেখে — দূরে যাচ্ছে কেউ, সে ডাকছে, কেউ শুনছে না। তারপর সেই মানুষটা ঘুরে তাকায়, হাসে। তারপর ঘুম ভেঙে যায়। এই স্বপ্নটা আসলে সত্যি। একদিন এভাবেই যাওয়া হবে। কেউ ডাকবে, শোনা যাবে না। হয়তো ঘুরে তাকানো যাবে। হয়তো না।

মৃত্যু একা। পুরো জীবন মানুষের সাথে থাকলেও শেষ দরজাটা একাই পার হতে হয়। কাউকে নেওয়া যায় না, কিছু বহন করা যায় না। এই একাকীত্বকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এটা সত্য, এবং সত্যের মধ্যে একটা শান্তি আছে।

শেষ মুহূর্তে যে প্রশ্ন আসবে সেটা টাকা বা সাফল্যের না। প্রশ্নটা হবে — সত্যিই কি বেঁচেছিলাম? নাকি শুধু দিন পার করেছিলাম? পার্থক্যটা ছোট না। বেঁচে থাকা আর বেঁচে থাকার মধ্যে পুরো একটা জীবনের ফারাক।

হয়তো শেষ মুহূর্তে একটা বৃষ্টির শব্দ শোনা যাবে যা আসলে হচ্ছে না। হয়তো একটা নাম বলা হবে যা কেউ চেনে না। হয়তো মনে পড়বে পাহাড়ে বসে থাকার সেই বিকেলটা, যেদিন কিছুই করা হয়নি।

আত্মার মুক্তি একাকিত্ব জীবনের অভিজ্ঞতা দেহ ও আত্মার সম্পর্ক মানসিক স্বাস্থ্য

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একজন ব্যক্তির হাতে শূন্য ব্যালেন্সের এটিএম রিসিপ্ট, যা আর্থিক সংকট ও শূন্য পকেটের কষ্ট ফুটিয়ে তুলেছে; হতাশা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় এবং মধ্যবিত্ত জীবনের কঠিন বাস্তবতার একটি প্রতীকী চিত্র।

জীবন

শূন্য

ফেব্রুয়ারি ২০২৬ · 12 মিনিটে পড়া

জীবন

ঘড়ি

অক্টোবর ২০২৫ · 8 মিনিটে পড়া

জীবন

দাম

ডিসেম্বর ২০২৫ · 10 মিনিটে পড়া

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *