ব্লগ

মৃত্যুর ওয়েটিং রুম

নভেম্বর ২০২৫ · 2 মিনিটে পড়া
শেয়ার

ডাক্তারের চেম্বারে বসে আছি। সিরিয়াল ১৫। এখন চলছে ৫।

আরো দশজনের অপেক্ষা।

আমার চারপাশে বসে আছে আরো রোগী। বুড়ো মানুষরা। অসুস্থ মানুষরা। আমার মতোই ভয়ার্ত মানুষরা।

আমার হাতে রিপোর্টের প্যাকেট। রক্ত পরীক্ষা। এক্স-রে। ইসিজি।

আমি জানি না এগুলোতে কী লেখা আছে। ভালো না খারাপ।

আমি অপেক্ষা করি ডাক্তারের রায়ের জন্য।

এই অপেক্ষাটাই সবচেয়ে কষ্টকর।

আমার পাশে একজন বুড়ো লোক বসা। তার হাতেও রিপোর্ট। তিনি কাঁশছেন। মাঝে মাঝে কফ তুলছেন।

আমি ভাবি, তিনি কোন রোগে ভুগছেন? ক্যানসার? হার্টের সমস্যা?

আমার উল্টো দিকে একজন মধ্যবয়সী মহিলা। তার মুখে চিন্তার ছাপ। তিনি কী জানার জন্য অপেক্ষা করছেন?

আমি চারদিকে তাকাই। সবার মুখে একই ভাব। অনিশ্চয়তা। ভয়।

আমরা সবাই জানতে চাই আমাদের কী হবে। আমরা বাঁচব না মরব।

“সিরিয়াল ৬।” নার্স ডাকল।

একজন উঠে গেল। আমি এক নম্বর এগিয়ে গেলাম।

আরো নয়জন বাকি।

আমি ভাবি, এই অপেক্ষার সময়টা কেমন লাগে? মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীর ফাঁসির অপেক্ষার মতো?

আমরা জানি না আমাদের রিপোর্টে কী আছে। জীবন না মৃত্যু।

“সিরিয়াল ৭।”

আরো আট জন।

আমি আমার রিপোর্টের প্যাকেট দেখি। সিল করা। আমি খুলতে পারি। কিন্তু পারি না। কারণ আমি বুঝব না কী লেখা।

আমার ভাগ্য এই সিল করা প্যাকেটের মধ্যে।

“সিরিয়াল ৮।”

আরো সাতজন।

সময় যেন থেমে গেছে। প্রতিটি মিনিট একেকটি ঘণ্টার মতো লাগছে।

আমি ভাবি, মানুষ কেন অসুস্থ হয়? কেন আমাদের শরীর ভেঙে পড়ে?

আমার মোবাইলে আরাশের ছবি দেখি। আমি যদি মারা যাই, সে কী করবে?

“সিরিয়াল ১৫।”

আমার পালা।

আমি উঠে দাঁড়াই। পা কাঁপছে।

ডাক্তারের রুমে ঢুকি।

“বসেন। রিপোর্ট দেন।”

আমি রিপোর্ট দিই।

এখন আমার ভাগ্যের ফয়সালা হবে।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *