আজ অফিসে বার্ষিক পার্টি। সবাই হাসছে। আমিও হাসছি।
কিন্তু আমার হাসি আর তাদের হাসির মধ্যে পার্থক্য আছে। তারা ভিতর থেকে হাসছে। আমি বাইরে থেকে।
আশরাফ সাহেব এসে বলেন, “হায়দার, কেমন লাগছে পার্টি?” আমি বলি, “খুব ভালো স্যার।” মুখে হাসি ফুটিয়ে।
ভিতরে ভাবি, কতক্ষণ এই নাটক চলবে?
সবাই নাচছে। আমিও নাচি। কিন্তু আমার নাচ যেন একটা যন্ত্রের মতো। হাত-পা নড়ছে। কিন্তু আনন্দ নেই।
রিতা ম্যাডাম বলেন, “আরে হায়দার, তুমি কত মজার!” আমি বলি, “ধন্যবাদ ম্যাডাম।” আরো জোরে হাসি।
কী অদ্ভুত। আমি যত হাসি, ভিতরে তত কান্না আসে।
খাবারের সময় সবার সাথে বসি। তারা গল্প করে। আমি শুনি। মাঝে মাঝে “হা হা” করি। কিন্তু কী নিয়ে হাসছি, জানি না।
মনে হয় আমি একটা অভিনেতা। কিন্তু আমার কোনো script নেই। improvise করে যাচ্ছি।
এক সময় বাথরুমে গিয়ে আয়নায় দেখি। আমার মুখে এখনো হাসি লেগে আছে। যেন আটকে গেছে।
হাসি খুলে ফেলার চেষ্টা করি। কিন্তু পারি না। মনে হয় এটা আমার আসল মুখ হয়ে গেছে।
পার্টি শেষে বাড়ি ফিরি। হ্যাপি জিজ্ঞেস করে, “কেমন ছিল?”
আমি বলি, “ভালো।”
হ্যাপি বলে, “তাহলে এত মন খারাপ কেন?”
আমি চুপ থাকি।
আসলে পার্টিতে সবাই খুশি থাকার অভিনয় করে। কেউ বলে না তার মন খারাপ। কেউ বলে না সে এখানে থাকতে চায় না।
সবাই happy face পরে।
আমিও পরেছিলাম।
আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আমি যেন এমন দিন দেখি যখন অভিনয় করে হাসতে হবে না। যখন মন থেকে হাসতে পারব।
কিন্তু এই দেশে, এই সমাজে, এই অফিসে – সেটা সম্ভব কিনা জানি না।
একটু ভাবনা রেখে যান