আজ সকালে হ্যাপিকে বললাম, “আমার মনটা ভারী লাগছে।”
সে শুনল। কান দিয়ে শুনল। তারপর বলল, “একটু গরম চা খাও, ভালো লাগবে।”
কিন্তু আমি চায়ের কথা বলিনি। আমি বলেছিলাম আমার অস্তিত্বের ভার নিয়ে।
আরাশকে বললাম, “তুমি আমার স্বপ্ন।”
সে শুনল। তারপর বলল, “বাবা, আমি পড়তে যাচ্ছি।”
কিন্তু আমি তো তাকে বলতে চেয়েছিলাম যে সে আমার জীবনের একমাত্র আলো।
অফিসে সাহেবকে বললাম, “আমি এই কাজটা ভালোবাসি।”
তিনি শুনলেন। তারপর বললেন, “তাহলে ওভারটাইম করতে পারবে?”
কিন্তু আমি ভালোবাসার কথা বলেছিলাম। সেটা কি ওভারটাইমের মতো কিনে নেওয়া যায়?
এই কি আমার সবচেয়ে বড় যন্ত্রণা? সবাই আমার কথা শোনে, কিন্তু কেউ বোঝে না।
বন্ধু জামিউলকে বললাম, “আমি মাঝে মাঝে হারিয়ে যেতে চাই।”
সে শুনল। তারপর বলল, “ছুটি নিয়ে কোথাও ঘুরে এসো।”
কিন্তু আমি ভ্রমণের কথা বলিনি। আমি বলেছিলাম অস্তিত্ব থেকে বিরতির কথা।
মানুষ আমার শব্দ শোনে, কিন্তু আমার নীরবতা শোনে না। আমার বাক্য শোনে, কিন্তু আমার বিরাম শোনে না।
ছোটবেলায় একবার মাকে বলেছিলাম, “আমি ভয় পাই।”
মা শুনেছিলেন। তারপর বলেছিলেন, “ভূত নেই, ভয় পেও না।”
কিন্তু আমি ভূতের ভয়ের কথা বলিনি। আমি বলেছিলাম অজানা ভবিষ্যতের ভয়ের কথা।
হয়তো মানুষ শুধু সেটাই শোনে যেটা তারা শুনতে চায়। আর আমি বলি সেটা যেটা তারা শুনতে প্রস্তুত নয়।
আমি বলি “কষ্ট”, তারা শোনে “অসুবিধা”।
আমি বলি “একাকী”, তারা শোনে “বিরক্ত”।
আমি বলি “খোঁজ”, তারা শোনে “অভাব”।
রাতে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকেই বললাম, “আমি কষ্টে আছি।”
আয়নার মানুষটা শুনল। কিন্তু সেও বুঝল না।
আল্লাহ, এই পৃথিবীতে কি এমন কেউ আছে যে আমার কথার আসল মানে বুঝতে পারে? নাকি সবাই নিজের নিজের অনুবাদে অন্যের কথা শোনে?
হয়তো বোঝাপড়া মানে শুধু শোনা নয়। বোঝাপড়া মানে একই হৃদয়ে স্পন্দিত হওয়া।
একটু ভাবনা রেখে যান