রাত দুইটা। তিনটা। চারটা। ঘড়ির কাঁটার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে চোখ পোড়ে। কিন্তু ঘুম আসে না। শরীর ক্লান্ত, মন অস্থির।
রাতের নীরবতায় মনের চিৎকার শোনা যায়।
পাশে স্ত্রী গভীর ঘুমে। তার শান্ত শ্বাসের শব্দ। আরাশও নিশ্চিন্ত ঘুমিয়ে। কিন্তু আমি একা জেগে। রাতের পাহারাদার।
কেন আমার ঘুম হয় না?
চোখ বন্ধ করলে চিন্তার ঝড় শুরু। অফিসের অসমাপ্ত কাজ। আগামীকালের মিটিং। বাকি বিলের হিসাব। সব একসাথে ভিড় করে আসে।
রাত কি চিন্তার আদালত?
ভেড়া গোনার চেষ্টা করি। একশো পর্যন্ত গুনেও কাজ হয় না। তারপর হাজার। তবুও ঘুম নেই। ভেড়াদের পরিবর্তে সমস্যাদের মিছিল।
উল্টে-পাল্টে শুই। ডানে-বাঁয়ে। চিত-উপুড়। কোনো পজিশনেই আরাম নেই। বিছানা শত্রু হয়ে গেছে।
অনিদ্রা কি শরীরের বিদ্রোহ?
মোবাইল নিয়ে স্ক্রল করি। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম। কিন্তু নীল আলো চোখে পোড়ে। ঘুম আরো দূরে চলে যায়।
প্রযুক্তি কি ঘুমের শত্রু?
মনে পড়ে শৈশবে ঘুমের গল্প। মায়ের কোলে মাথা রেখে শুনতাম। এক মিনিটেই ঘুম। এখন হাজার গল্প পড়েও নিদ্রা আসে না।
বয়সের সাথে কি ঘুম হারিয়ে যায়?
গরম দুধ খাই। বই পড়ি। নরম গান শুনি। ঘুমের জন্য সব করি। কিন্তু ঘুম একগুঁয়ে মেহমান। আসতে চায় না।
রাতের শেষে ভোর আসে। পাখির ডাক। আজানের আওয়াজ। এবার ঘুমের পালা শেষ।
কিন্তু এখন ঘুম এল।
দিনের আলোয় চোখ পাকিয়ে যায়। মাথা ভার। শরীর ভাঙা। কফি খেয়ে জোর করে সতেজ হওয়ার চেষ্টা।
দিনভর জোম্বির মতো চলি। সহকর্মীরা বলে, “তুমি ক্লান্ত দেখাচ্ছো।” বলি, “ঘুম হয়নি।” তারা বলে, “আজ তাড়াতাড়ি ঘুমাও।”
তারা জানে না অনিদ্রার জ্বালা।
ডাক্তারের কাছে গিয়েছি। তিনি বলেছেন, “স্ট্রেস কম করুন। স্ক্রিন টাইম কমান। নিয়মিত ব্যায়াম করুন।”
কিন্তু স্ট্রেস কমানো কি আমার হাতে?
ঘুমের ওষুধ দিয়েছে। খেলে ঘুম আসে। কিন্তু পরদিন মাথা ঝিমঝিম। আর ওষুধ ছাড়লে আবার অনিদ্রা।
কৃত্রিম ঘুম কি আসল সমাধান?
রাতের নীরবতায় অস্তিত্বের প্রশ্ন জাগে। আমি কে? কোথায় যাচ্ছি? জীবনের অর্থ কী?
দিনে এই প্রশ্নগুলো মনে আসে না।
মাঝে মাঝে ভাবি—অনিদ্রা কি মনের একটা সিগন্যাল? শরীর বলছে, “কিছু ঠিক নেই।”
নাকি শুধুই ব্রেনের ক্যামিস্ট্রির সমস্যা?
যেদিন ভালো ঘুম হয়, সেদিন অন্য মানুষ। সবকিছু সহজ লাগে। কাজে মন বসে। পরিবারের সাথে ভালো থাকি।
ঘুম কি সুখের চাবিকাঠি?
অনিদ্রার সবচেয়ে কষ্টকর দিক—একাকীত্ব। রাত জেগে থাকা মানে পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া।
সবাই ঘুমিয়ে। আমি একা জেগে।
রাতের নীরবতায় নিজের হৃদস্পন্দনের শব্দ শুনি। শ্বাসের আওয়াজ। শরীরের অভ্যন্তরীণ কোলাহল।
বাইরে নীরব। ভিতরে ঝড়।
অনিদ্রা একটা অদৃশ্য যন্ত্রণা। কেউ বুঝবে না। দেখা যায় না। কিন্তু জীবন নষ্ট করে।
ঘুমহীন রাতের আর্তনাদ শুনতে পায় শুধু আমি।
একটু ভাবনা রেখে যান