রাত তিনটা। আমি জেগে আছি। পাশে হ্যাপি ঘুমাচ্ছে।
আমার মাথায় একটাই হিসাব ঘুরছে।
হোম লোন—১৫,০০০ টাকা। পার্সোনাল লোন—৮,০০০ টাকা। ক্রেডিট কার্ড—৫,০০০ টাকা।
মোট কিস্তি—২৮,০০০ টাকা।
আমার বেতন ৩৫,০০০ টাকা। কিস্তি দিয়ে বাকি থাকে ৭,০০০।
সাত হাজার টাকায় একটা পরিবার?
আমি ক্যালকুলেটর নিয়ে বসি।
৭,০০০ ÷ ৩০ দিন = ২৩৩ টাকা দৈনিক।
দিনে ২৩৩ টাকায় তিনজনের খাওয়া-দাওয়া, যাতায়াত, ওষুধপত্র?
অসম্ভব।
আমি আবার হিসাব করি। হয়তো কোথাও ভুল।
কিন্তু ভুল নেই। হিসাব পরিষ্কার।
আমি কোনো একটা লোন বন্ধ করার কথা ভাবি।
পার্সোনাল লোনের বাকি আছে তিন লাখ। একসাথে দিলে বন্ধ করতে পারি।
কিন্তু তিন লাখ টাকা কোথায়?
আমি বাড়ি বিক্রির কথা ভাবি। কিন্তু বাড়ি বিক্রি করলে থাকব কোথায়?
ক্রেডিট কার্ড বন্ধ করি। কিন্তু জরুরি প্রয়োজনে কী করব?
আমি বিছানায় এপাশ-ওপাশ করি।
হ্যাপি উঠে বসে। “ঘুমাচ্ছ না কেন?”
“একটু ভাবনা।”
“কিসের ভাবনা?”
আমি বলতে পারি না। বললে ওর ঘুমও হারাম হয়ে যাবে।
“কিছু না। তুমি ঘুমাও।”
হ্যাপি আবার শুয়ে পড়ে।
আমি জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াই। বাইরে শান্ত রাত।
অন্য সবাই নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে। শুধু আমি কিস্তির হিসাবে জেগে আছি।
আরো চার বছর এই অবস্থা চলবে।
আরো চার বছর এই নিদ্রাহীন রাত।
একটু ভাবনা রেখে যান