ব্লগ

স্ক্রিনে নিজেকে দেখে অচেনা লাগা

নভেম্বর ২০২৫ · 5 মিনিটে পড়া
শেয়ার

আজ একটা অনলাইন মিটিং ছিল। কাজের বিষয়ে। ল্যাপটপ খুলে জুম চালু করলাম।

হঠাত দেখি স্ক্রিনের কোণায় আমার মুখ। আমার ক্যামেরা চালু।

এক সেকেন্ডের জন্য চমকে গেলাম। এই মানুষটা কে? এ কি আমি?

আমি প্রতিদিন আয়নায় নিজেকে দেখি। কিন্তু ক্যামেরায় দেখলে কেন এত অচেনা লাগে?

মিটিং শুরু হলো। সবাই কথা বলছে। কিন্তু আমার মনোযোগ আমার নিজের ছবিতে।

আমি কি সত্যিই এমন দেখতে? আমার চোখ এত ছোট? আমার নাক এত বড়?

আমি নিজেকে পর্যবেক্ষণ করতে লাগলাম। কথা বলার সময় আমার মুখ কেমন হয়। হাসার সময় কেমন লাগে।

একটা অদ্ভুত self-consciousness তৈরি হলো।

অন্যরা কথা বলছে। আমি শুনছি। কিন্তু একই সাথে নিজেকে দেখছি। নিজের প্রতিক্রিয়া monitor করছি।

এই double awareness খুব uncomfortable.

সামনাসামনি মিটিংয়ে আমি নিজেকে দেখি না। শুধু অন্যদের দেখি। সেখানে আমি spontaneous থাকি।

অনলাইন মিটিংয়ে আমি একই সাথে দর্শক এবং অভিনেতা। নিজেকে দেখি এবং নিজেকে judge করি।

আমি লক্ষ করলাম – আমি unconsciously আমার চেহারা ঠিক করার চেষ্টা করছি। চুল ঠিক করছি। পোশাক ঠিক করছি।

কথা বলার সময় ভাবছি – আমাকে কেমন লাগছে? আমার expression কেমন?

এই self-monitoring আমার natural behavior নষ্ট করে দিচ্ছে।

হ্যাপি একদিন বলেছিল, “তুমি ভিডিও কলে অন্য রকম লাগো।”

আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, “কেমন অন্য রকম?”

“মনে হয় তুমি অভিনয় করছো।”

ঠিক কথা। আমি অভিনয় করছি। কারণ আমি নিজেকে দেখছি।

যখন আমি নিজেকে দেখি, আমি সচেতন হয়ে যাই। আমি ভাবি – আমাকে ভালো দেখাতে হবে। smart দেখাতে হবে। confident দেখাতে হবে।

এই চেষ্টায় আমি আমার natural self হারিয়ে ফেলি।

অনলাইন মিটিংয়ে আমার আরও একটা অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমি discover করেছি যে আমি camera-conscious.

যখন ক্যামেরা on, আমি একরকম behave করি। যখন ক্যামেরা off, আমি অন্যরকম।

ক্যামেরা on থাকলে আমি straight বসি। serious expression রাখি। professional দেখানোর চেষ্টা করি।

ক্যামেরা off করলে আমি relax হই। natural হয়ে যাই।

এটা কি আমার real personality?

আমি ভাবি – আমি কি ক্যামেরার জন্য একটা fake persona তৈরি করেছি?

সবচেয়ে disturbing যে অভিজ্ঞতা হয়েছে – একদিন মিটিংয়ের পর রেকর্ডিং দেখলাম।

আমার নিজের voice শুনে অবাক হলাম। এ কি আমার কণ্ঠস্বর? এত অদ্ভুত কেন লাগছে?

আমি নিজেকে কথা বলতে দেখলাম। আমার gestures দেখলাম। আমার facial expressions দেখলাম।

মনে হলো আমি একজন অপরিচিত মানুষকে দেখছি।

এই experience আমাকে একটা existential crisis-এ ফেলে দিল।

আমি কে? আমার real self কোনটা? যেটা আমি ভাবি? যেটা অন্যরা দেখে? নাকি যেটা ক্যামেরায় ধরা পড়ে?

আমি বুঝলাম – আমাদের self-perception আর reality-র মধ্যে একটা gap আছে।

আমরা নিজেদের সম্পর্কে যা ভাবি, আমরা আসলে তা নই।

আয়নায় দেখলে আমরা নিজেদের যেমন দেখি, ক্যামেরায় সেরকম দেখায় না।

কারণ আয়নায় আমরা flipped image দেখি। ক্যামেরায় actual image দেখি।

এছাড়া আয়নায় আমরা selective দেখি। ভালো angles থেকে দেখি। ভালো lighting-এ দেখি।

ক্যামেরা objective. সে সব দেখায়। ভালো-মন্দ সব।

অনলাইন মিটিং আমাদের এই harsh reality-র সামনে ফেলে দেয়।

আমি এখন চেষ্টা করি self-view বন্ধ রাখতে। যাতে আমি নিজেকে দেখতে না পাই।

তাহলে আমি আরও natural থাকতে পারি। আরও authentic থাকতে পারি।

কিন্তু এটাও একটা সমস্যা। আমি জানি না আমাকে কেমন লাগছে। আমার ক্যামেরা ঠিক আছে কিনা।

এই uncertainty আমাকে আরও anxious করে তোলে।

অনলাইন মিটিং আমাদের একটা নতুন self-awareness দিয়েছে। কিন্তু সেই awareness comfortable নয়।

আমরা নিজেদের সম্পর্কে জানতে পেরেছি যা আমরা জানতে চাইনি।

আমরা discover করেছি যে আমাদের self-image আর actual image different.

এই discovery করে আমরা confused হয়ে গেছি। আমরা জানি না কোনটা real.

হয়তো real self বলে কিছু নেই। হয়তো আমরা different contexts-এ different person.

হয়তো অনলাইন মিটিং আমাদের এই multiplicity টা দেখিয়ে দিচ্ছে।

কিন্তু এই multiplicity accept করা কঠিন। আমরা চাই consistent identity.

অনলাইন মিটিং সেই consistency নষ্ট করে দিচ্ছে।

আমাদের নিজেদের সাথে নতুন করে পরিচিত হতে হচ্ছে।

আর এই পরিচয় process টা comfortable নয়।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *