আরাশ তার বন্ধুর সাথে ঝগড়া করেছে। সে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি এসেছে।
“কী হয়েছে?”
“রিহান আমাকে মিথ্যুক বলেছে।”
“কেন?”
“আমি বলেছিলাম আমার বাবা বিখ্যাত লেখক। কিন্তু স্যার বলেছেন তুমি বিখ্যাত নও।”
আমার বুকে তীর বিঁধল।
আরাশ আমার সম্পর্কে মিথ্যা বলেছে। আর সেই মিথ্যার জন্য অপমানিত হয়েছে।
আমি তাকে বকা দেওয়ার জন্য মুখ খুলি। কিন্তু থেমে যাই।
আরাশ কেন মিথ্যা বলেছে? কারণ সে তার বাবাকে নিয়ে গর্ব করতে চেয়েছে। কারণ সে চেয়েছে তার বন্ধুরা তাকে সম্মান করুক।
কিন্তু বাস্তবে আমি সেই যোগ্যতা রাখি না।
“আরাশ, তুই কেন মিথ্যা বললি?”
“আমি চেয়েছিলাম সবাই জানুক আমার বাবা অন্যদের চেয়ে ভালো।”
আমার চোখে পানি এসে যায়।
“আরাশ, মিথ্যা বলা ঠিক না।”
“কিন্তু বাবা, তুমি তো আমার কাছে মিথ্যা বল। বল আমাদের অনেক টাকা আছে। বল তুমি সফল।”
আরাশের এই কথায় আমি স্তব্ধ হয়ে যাই।
সে ঠিক বলেছে। আমি তার কাছে মিথ্যা বলি। আমি ভান করি যে সব ঠিক আছে।
তাহলে আরাশও আমার কাছ থেকেই শিখেছে।
“আরাশ, আমি তোকে মিথ্যা বলতে বলিনি।”
“কিন্তু তুমি নিজেই মিথ্যা বল।”
আমি বুঝতে পারি, সন্তানকে সৎ হতে শেখানোর আগে আমাকে সৎ হতে হবে।
“আরাশ, তুই ঠিক বলেছিস। আমি তোর কাছে মিথ্যা বলেছি। এটা ভুল হয়েছে।”
আরাশ অবাক হয়।
“সত্যি বাবা?”
“হ্যাঁ। আমি একজন বিখ্যাত লেখক নই। আমাদের অনেক টাকাও নেই। কিন্তু আমি তোর জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করি।”
আরাশ আমার কাছে আসে।
“বাবা, তুমি বিখ্যাত না হলেও তুমি আমার বাবা।”
আমি আরাশকে জড়িয়ে ধরি।
আমি বুঝতে পারি, সন্তানকে পথ দেখানোর আগে আমাকে সঠিক পথে থাকতে হবে।
আরাশ আমার কাজ দেখে শেখে, আমার কথা শুনে নয়।
একটু ভাবনা রেখে যান