ব্লগ

যে আয়নায় নিজের অপূর্ণতা

নভেম্বর ২০২৫ · 3 মিনিটে পড়া
শেয়ার

আরাশ তার আঁকা ছবিটা আমার কাছে নিয়ে এল। একটা পাখি, একটা গাছ, আকাশে মেঘ।

আমি অবাক হয়ে দেখি। এত সুন্দর করে আঁকতে পারে?

“কে শিখিয়েছে?”

“কেউ না। আমি নিজেই আঁকি।”

আমার বুকের ভিতর একটা অদ্ভুত অনুভূতি। গর্ব, কিন্তু একই সাথে এক ধরনের হীনমন্যতা।

আরাশের এই প্রতিভা আমার নেই।

আমি লিখতে পারি। কিন্তু আমার লেখা কি আরাশের আঁকার মতো স্বাভাবিক, সুন্দর?

আরাশ আরো কিছু ছবি দেখাল। প্রতিটি ছবিই আমাকে তাক লাগিয়ে দেয়।

“বাবা, আমি একটা বড় শিল্পী হতে চাই।”

আমার মনে দ্বন্দ্ব। একদিকে চাই আরাশ তার স্বপ্ন পূরণ করুক। অন্যদিকে জানি শিল্পী হওয়া মানে আর্থিক অনিশ্চয়তা।

কিন্তু আসল কষ্ট অন্য জায়গায়। আরাশের প্রতিভা দেখে আমি বুঝতে পারছি, আমি কত সীমিত।

আমি লেখালেখি করি। কিন্তু কয়েক বছর ধরে চেষ্টা করেও তেমন কিছু হতে পারিনি। আরাশ মাত্র এগারো বছর বয়সে এমন আঁকে যা আমাকে মুগ্ধ করে।

প্রকৃতি কি আরাশকে সেই প্রতিভা দিয়েছে যা আমাকে দেয়নি?

আমার মনে পড়ে আমার বাবার কথা। তিনি আমার কোনো প্রতিভা দেখে এমন অভিভূত হয়েছিলেন কি?

আমি ভাবি, বাবারা কি সবসময় তাদের সন্তানের সাথে নিজেদের তুলনা করে?

আমি ভাবি, আরাশ যদি সত্যিই বড় শিল্পী হয়, তাহলে কি সে তার ব্যর্থ লেখক বাবাকে নিয়ে লজ্জা পাবে?

“বাবা, তুমি কেমন লাগছে আমার ছবি?”

“খুব সুন্দর।”

কিন্তু আমার ভিতরে একটা কষ্ট। আমার ছেলে আমার চেয়ে প্রতিভাবান। এটা নিয়ে আমার গর্বিত হওয়া উচিত। কিন্তু আমি কেন হীনমন্যতায় ভুগছি?

হয়তো প্রতিটি বাবাই চায় তার সন্তান তার চেয়ে ভালো হোক। কিন্তু যখন সন্তান সত্যিই তার চেয়ে ভালো হয়, তখন বাবা নিজেকে ছোট মনে করে।

এই অনুভূতি কি স্বাভাবিক? নাকি আমি একজন স্বার্থপর বাবা?

আমি আরাশকে বলি, “তুই যদি শিল্পী হতে চাস, আমি তোর সাহায্য করব।”

“সত্যি বাবা?”

“হ্যাঁ।”

কিন্তু ভিতরে ভিতরে আমি জানি, আমার নিজের অপূর্ণতার কারণে আরাশের প্রতিভা আমার জন্য কষ্টকর।

আমি চাই এই হীনমন্যতা কাটিয়ে উঠতে। চাই নিঃশর্ত আনন্দে আরাশের প্রতিভার প্রশংসা করতে।

কিন্তু পারি না।

এটাও হয়তো পিতৃত্বের একটা অংশ।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

ব্লগ

মিথ্যা

নভেম্বর ২০২৫ · 11 মিনিটে পড়া

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *