পুকুরের শান্ত জলের প্রতিফলনে সুন্দর সূর্যোদয় এবং জলের নিচে লুকিয়ে থাকা কাঁটাযুক্ত শেকড়ের দৃশ্য, যা বাইরে ভালো থাকার অভিনয় এবং ভেতরের যন্ত্রণার রূপককে তুলে ধরে।

জীবন

মিথ্যা: সবচেয়ে বড় মিথ্যাটা অন্যকে না, আমরা নিজেকে বলি

সেপ্টেম্বর ২০২৫ · 9 মিনিটে পড়া
শেয়ার
পুকুরের শান্ত জলের প্রতিফলনে সুন্দর সূর্যোদয় এবং জলের নিচে লুকিয়ে থাকা কাঁটাযুক্ত শেকড়ের দৃশ্য, যা বাইরে ভালো থাকার অভিনয় এবং ভেতরের যন্ত্রণার রূপককে তুলে ধরে।
সত্যি বললে জীবনটা ভেঙে পড়বে, আর মিথ্যা বললে জীবনটা চলতে থাকে। তাই আমরা মিথ্যাই বলি।

মিথ্যা

তুমি প্রতিদিন মিথ্যা বলো। কিন্তু সবচেয়ে বড় মিথ্যাটা অন্যকে না। নিজেকে।


সকাল

অ্যালার্ম বাজল। বন্ধ করলাম। আবার বাজল। আবার বন্ধ। তিনবার।

আয়নায় তাকালাম। চোখের নিচে কালি।

ভাবলাম — আজও একই অফিস। একই কাজ। একই মানুষ।

বমি হবে।

কিন্তু ব্রাশ দিলাম। জামা পরলাম। বেরিয়ে গেলাম।


সারাদিনের হিসাব

লিফটে প্রতিবেশী — কেমন আছেন?

ভালো। মিথ্যা।

অফিসে বস — রিপোর্ট দরকার।

Sure, will do. মিথ্যা।

সহকর্মী — চলো বাইরে খাই?

না, ব্যস্ত। মিথ্যা।

বাড়ি ফিরে — দিন কেমন ছিল?

ভালো। মিথ্যা।

ক্লান্ত লাগছে?

একটু। মিথ্যা। অনেক।


প্রমোশন

বস ডাকল। প্রমোশন।

হাসলাম। ধন্যবাদ।

কেবিনে ফিরে বসলাম।

কাঁদব মনে হলো।

কাঁদলাম না।

রাতে উদযাপন। রেস্টুরেন্ট। হাসি।

কিন্তু ভেতরে খালি।

যেন অন্য কেউ আমার জীবন কাটাচ্ছে।

রাতে জিজ্ঞেস করল — খুশি তো?

হ্যাঁ। মিথ্যা।


লেখার কথা

বিয়ের আগে জিজ্ঞেস করেছিল — কী করতে ভালোবাসো?

লিখতে।

পড়তে দেবে?

একদিন লিখব।

পাঁচ বছর হয়ে গেছে।

একটা লাইনও লিখিনি।

প্রথমে ভেবেছিলাম চাকরির পর। তারপর সংসার গুছিয়ে। তারপর একটু সময় পেলে।

সময় আসেনি।

আসবেও না।

কারণ সময়ের সমস্যা না। সাহসের সমস্যা।


মায়ের ফোন

কেমন আছিস?

ভালো। মিথ্যা।

কাজে সমস্যা?

না মা। মিথ্যা।

মা বলল — তুই সব সামলে নিস। তোর বাবা গর্ব করত।

ফোন রেখে বসে রইলাম।

গর্ব কীসের?

একটা চাকরি যেটা ভালো লাগে না। একটা সংসার যেখানে নিজেকে লুকাই। একটা জীবন যেটা চাইনি।

মাকে বলিনি।

কারণ মা খুশি হতে চায়।


আসল মিথ্যা

কিন্তু এই মিথ্যাগুলো বড় না।

সবচেয়ে বড় মিথ্যা হলো — তুমি নিজেকে বলছ এটাই জীবন।

টাকা লাগে। দায়িত্ব আছে। সবাই এভাবেই থাকে।

এই কথাগুলো তোমার না।

কিন্তু তুমি এতদিন বলছ যে নিজেরই মনে হচ্ছে।


রাতের প্রশ্ন

পাশে কেউ ঘুমিয়ে পড়ল।

আমি পারলাম না।

শুধু একটা প্রশ্ন — কতদিন আর?

কতদিন আর মিথ্যা?

কতদিন আর অভিনয়?

উত্তর নেই।


সকালে আয়না

আয়নায় একজন দাঁড়িয়ে।

চিনতে পারলাম না।

এই লোক কে?

শুধু জানি — এই লোক মিথ্যা বলে। প্রতিদিন। সবাইকে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি নিজেকে।

এবং সবচেয়ে ভয়ানক সত্য —

এই মিথ্যাটা থামানোর কথা মাথায় আসে। কিন্তু থামানো হয় না।

কারণ সত্যি বললে জীবনটা ভেঙে পড়বে।

আর মিথ্যা বললে জীবনটা চলতে থাকে।

তাই মিথ্যাই বলি।

এবং এটাকেই বলি — বেঁচে থাকা।

আত্মঅনুসন্ধান আত্মপরিচয় আত্মার মুক্তি একাকিত্ব দার্শনিক ভাবনা পরিচয় বাস্তবতা মানসিক স্বাস্থ্য স্বপ্ন

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

জীবন

দাগ

ডিসেম্বর ২০২৫ · 9 মিনিটে পড়া

কথা

মৃত্যু

অক্টোবর ২০২৫ · 9 মিনিটে পড়া

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *