আর-রহমান। দয়াময়। সকালে ঘুম থেকে ওঠার সময় যে নিঃশ্বাস নিই, সেটা তাঁর দয়া।
আর-রহিম। করুণাময়। রাতে ঘুমিয়ে পড়ার সময় যে শান্তি পাই, সেটা তাঁর করুণা।
আল-মালিক। মালিক। এই ঘর, এই পৃথিবী, এই আমি – সবকিছুর আসল মালিক তিনি।
আল-কুদ্দুস। পবিত্র। আমার সব নোংরামি, সব পাপ – তাঁর কাছে গেলে পরিষ্কার হয়ে যায়।
আস-সালাম। শান্তি। অশান্তিতে তাঁর নাম নিলে মনে শান্তি আসে।
আল-মুমিন। নিরাপত্তাদাতা। ভয়ের মধ্যে তাঁর নাম নিলে ভয় কমে যায়।
এভাবে একে একে নিরানব্বইটা নাম। নিরানব্বইটা দরজা।
জীবনের প্রতিটা সমস্যার জন্য একেকটা দরজা। প্রতিটা প্রয়োজনের জন্য একেকটা নাম।
যখন অসুস্থ হই – আশ-শাফি (আরোগ্যদাতা)। যখন গরিব হই – আর-রাজ্জাক (রিজিকদাতা)। যখন হারিয়ে যাই – আল-হাদি (পথপ্রদর্শক)। যখন দুর্বল হই – আল-কাদির (শক্তিমান)।
কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে – এই নিরানব্বইটা নাম আসলে একটাই নাম। “আল্লাহ।”
আর এই একটা নামের মধ্যে লুকিয়ে আছে সমস্ত অর্থ। সমস্ত প্রয়োজন। সমস্ত সমাধান।
মাঝে মাঝে তসবিহ হাতে নিয়ে এই নামগুলো পড়ি। প্রতিটা নামে এক এক রকম অনুভূতি হয়।
আল-জামিল (সুন্দর) বললে চোখে ভেসে ওঠে ফুলের মতো সুন্দর জিনিস। আল-জালিল (মহান) বললে মনে হয় পাহাড়ের চেয়েও বড় কিছু। আল-লতিফ (সূক্ষ্ম) বললে মনে হয় হাওয়ার চেয়েও মিহি কিছু।
কিন্তু সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে – এই নামগুলো শুধু তাঁর নাম না। এগুলো আমাদের চেনার জন্যও।
তিনি আর-রহমান – তাই আমাদেরও দয়ালু হতে হবে। তিনি আস-সবুর (ধৈর্যশীল) – তাই আমাদেরও ধৈর্য রাখতে হবে। তিনি আল-হালিম (ধীরস্থির) – তাই আমাদেরও রাগ সংযত করতে হবে।
যেন এই নিরানব্বইটা নাম নিরানব্বইটা আয়না। প্রতিটা আয়নায় তাঁর একেকটা গুণ প্রতিফলিত। আর আমাদের চেষ্টা করতে হবে সেই প্রতিফলন নিজের মধ্যে ধরে রাখার।
হয়তো এই জন্যই জীবনের অর্থ খুঁজতে হয় না। জীবনের অর্থ লুকিয়ে আছে এই নিরানব্বইটা নামের মধ্যে।
আর আমাদের কাজ হচ্ছে – জীবনের প্রতিটা মুহূর্তে সঠিক নামটা বেছে নেওয়া। সঠিক দরজায় কড়া নাড়া।
একটু ভাবনা রেখে যান