আজ সকালে খবরের কাগজে ছোট্ট একটা খবর। “মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ।” মাত্র তিন লাইনের খবর। শেষ পাতায়।
আমার হাত কাঁপতে লাগল। আরাশ পাশে বসে নাশতা খাচ্ছে। তার নিষ্পাপ মুখ দেখে আরো খারাপ লাগল। সে জানে না কী ভয়াবহ জগতে সে বড় হচ্ছে।
অফিসে গিয়ে সহকর্মী রিজওয়ানের সাথে কথা হলো। তার ছেলেও একটা মাদ্রাসায় পড়ে। জিজ্ঞেস করলাম, “ভাই, ওখানে সব ঠিক তো?”
রিজওয়ান একটু চুপ থেকে বলল, “আসলে আমার ছেলে কিছু অদ্ভুত কথা বলে। কিন্তু মাওলানা সাহেব বলেছেন, ছেলেদের মধ্যে এমন বদমাইশি থাকে।”
আমার বুকটা ধক করে উঠল। “কী ধরনের কথা?”
“বলে উস্তাদ রাতে ডরমিটরিতে আসে। কিছু ছেলেদের ডাকে। কিন্তু আমি ভাবলাম বাচ্চাদের কল্পনা।”
বাসায় ফিরে হ্যাপিকে বললাম সব। হ্যাপির মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেল। “তুমি কি মনে করো?”
রাতে আরাশ ঘুমানোর পর হ্যাপির সাথে অনেকক্ষণ কথা হলো। আমরা ঠিক করলাম আরাশকে কোনো বোর্ডিং মাদ্রাসায় পাঠাব না।
কিন্তু যে সব বাচ্চারা এই পরিস্থিতিতে আছে, তাদের কী হবে? তারা কাকে বলবে? বাবা-মায়েরা কি বিশ্বাস করবেন?
ইন্টারনেটে সার্চ করে দেখি এমন অনেক ঘটনা। কিন্তু বেশিরভাগই চাপা পড়ে যায়। “মাদ্রাসার মান নষ্ট হবে” বলে।
একটা আর্টিকেলে পড়লাম – “অনেক পরিবার নীরবতা বেছে নেয় সামাজিক লজ্জার ভয়ে।” লজ্জা কার? যে নির্যাতন করছে তার, নাকি যার উপর হচ্ছে তার?
মনে পড়ে বাবার কথা। উনি বলতেন, “যারা ধর্ম শেখায়, তারা সবচেয়ে পবিত্র।” কিন্তু পবিত্রতার মুখোশ পরে যদি কেউ অপবিত্র কাজ করে?
বারান্দায় দাঁড়িয়ে ভাবি। যে বাচ্চারা কুরআন শিখতে যায়, নামায শিখতে যায়, তাদের সাথে যদি এমন হয়, তারা কিভাবে আল্লাহকে বিশ্বাস করবে?
আল্লাহর কাছে দোয়া করি – হে আল্লাহ, তোমার নামে যারা এই অন্যায় করে, তাদের বিচার করো। আর যে বাচ্চারা কষ্ট পাচ্ছে, তাদের রক্ষা করো।
কিন্তু আমি কী করব? চুপ থাকব নাকি কিছু বলব? বললে কি কেউ শুনবে?
একটু ভাবনা রেখে যান