ব্লগ

লিফটের নিরবতার অস্বস্তি

নভেম্বর ২০২৫ · 3 মিনিটে পড়া
শেয়ার

লিফটে উঠলাম। ৬ তলায় যেতে হবে। ২য় তলায় উঠল জামিউর। ৩য় তলায় উঠল আরো দুজন কলিগ। এখন আমরা চারজন একই ছোট্ট বক্সে আটকা পড়েছি। এবং শুরু হয়েছে সবচেয়ে অস্বস্তিকর ৩০ সেকেন্ড।

কেউ কিছু বলছে না। সবাই লিফটের ডিসপ্লে দেখছি। যেন সেখানে পৃথিবীর সবচেয়ে আকর্ষণীয় কিছু লেখা আছে। “২…৩…৪…” প্রতিটি তলার নাম্বার দেখছি এমন মনোযোগ দিয়ে যেন এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

এই নীরবতা কেন এত অস্বস্তিকর? আমরা সবাই একই অফিসে কাজ করি। প্রতিদিন দেখা হয়। কথা বলি। কিন্তু লিফটে উঠলেই যেন সবাই বোবা হয়ে যাই।

জামিউর একবার গলা খাঁকারি দিল। আমি ভাবলাম সে হয়তো কিছু বলবে। কিন্তু না। শুধু গলা পরিষ্কার করেছে।

আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, “যেন তাড়াতাড়ি ৬ তলা এসে যায়।” কিন্তু লিফট যেন আজ খুব ধীরে চলছে।

কখনো কখনো ভাবি কিছু একটা বলব। “আজ আবহাওয়া ভালো” বা “ট্রাফিক কেমন ছিল?” কিন্তু এই সব কথাই শোনায় কৃত্রিম। তাই চুপ করে থাকি।

৪র্থ তলায় একজন নেমে গেল। এখন আমরা তিনজন। কিন্তু নীরবতা আরো ঘন হয়েছে। যেন সে চলে যাওয়ায় শূন্যস্থানটা নীরবতায় ভরে গেছে।

আমি আমার ফোন বের করার কথা ভাবি। কিন্তু ৩০ সেকেন্ডের জন্য ফোন বের করা অদ্ভুত লাগবে।

৫ম তলায় আরেকজন নেমে গেল। এখন আমি আর জামিউর দুজন। এই মুহূর্তে কিছু বলা উচিত। কিন্তু কী বলব?

“৬ তলা এসে গেছে।” জামিউর বলল। যেন আমি অন্ধ, দেখতে পাচ্ছি না। কিন্তু এই সাধারণ কথাটাও স্বস্তি দিল।

লিফট থেকে বেরিয়ে মনে হল যেন একটা পরীক্ষা শেষ হয়েছে। আমরা দুজনেই হাঁফ ছেড়ে বাঁচি।

এই লিফটের নীরবতা আমাদের অফিস কালচারের একটা প্রতিফলন। আমরা সবাই প্রফেশনাল। কিন্তু ব্যক্তিগত কথাবার্তায় অস্বস্তি বোধ করি।

কেউ হয়তো ভাবে, “লিফটে কথা বলার দরকার কী?” কিন্তু এই নীরবতা একধরনের কৃত্রিমতা তৈরি করে।

পশ্চিমা দেশের ছবিতে দেখি লিফটে মানুষ স্বাভাবিকভাবে কথা বলে। আমাদের এখানে এটা কেন এত কঠিন?

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *