সে কথা বলছে না।
কিন্তু তার নীরবতা চিৎকার করছে।
তার হাতের নড়াচড়া বলছে কিছু।
তার চোখের ভাষা বলছে কিছু।
তার পায়ের শব্দ বলছে কিছু।
আমি একজন অনুবাদক। নীরবতার অনুবাদক।
প্রতিদিন তার নীরবতা পড়ার চেষ্টা করি।
আজ তার নীরবতার সুর ভিন্ন।
এটা রাগের নীরবতা? নাকি দুঃখের?
হতাশার? নাকি অভিমানের?
প্রতিটা নীরবতার আলাদা রং।
রাগের নীরবতা লাল।
দুঃখের নীরবতা নীল।
অভিমানের নীরবতা হলুদ।
আজকের নীরবতা কী রং?
আমি অনুমান করি।
গতকাল আমি কী করেছিলাম?
কী বলেছিলাম?
কী বলিনি?
আমার অপরাধ খুঁজে বের করার চেষ্টা করি।
কিন্তু পাই না।
নাকি আমি দেখতে পাচ্ছি না?
পুরুষ হিসেবে আমি অন্ধ।
সূক্ষ্ম অনুভূতি পড়তে পারি না।
আমি জিজ্ঞেস করি, “কিছু হয়েছে?”
সে বলে, “না।”
কিন্তু তার “না” মানে “হ্যাঁ।”
আমি বলি, “বল কী হয়েছে।”
সে বলে, “কিছু না।”
কিন্তু তার “কিছু না” মানে “অনেক কিছু।”
আমি বলি, “আমি বুঝতে পারছি না।”
সে বলে, “তুমি কখনো বোঝো না।”
এখন আমি বুঝলাম।
সমস্যা আমার বোঝার মধ্যে।
আমি একজন ব্যর্থ পাঠক।
আমি তার ভাষা পড়তে পারি না।
তার কোড ডিকোড করতে পারি না।
আমি অভিযুক্ত। অপরাধী।
কিন্তু কী অপরাধ জানি না।
আমি মাফ চাই।
সে বলে, “কী জন্য?”
আমি বলি, “জানি না।”
সে বলে, “তাহলে মাফ চেয়ে লাভ কী?”
আমি চুপ হয়ে যাই।
কারণ সে ঠিক বলেছে।
না জেনে মাফ চাওয়া আরো বড় অপরাধ।
আমি তার নীরবতার ভিতর হারিয়ে যাই।
খুঁজি কোন শব্দ লুকিয়ে আছে।
কোন আবেগ লুকিয়ে আছে।
কোন প্রত্যাশা লুকিয়ে আছে।
আমি ব্যর্থ হই।
প্রতিবার।
কারণ নীরবতার ভাষা আমার জানা নেই।
আমি শুধু শব্দের ভাষা জানি।
কিন্তু প্রেমের ভাষা শব্দের চেয়ে বেশি।
নীরবতার চেয়ে বেশি।
অনুভূতির।
যেটা আমি কখনো শিখিনি।
একটু ভাবনা রেখে যান