আমি তার দিকে তাকাই না। কিন্তু যখন সে অফিসের করিডর দিয়ে হেঁটে যায়, আমার চোখ আপনা আপনি তার দিকে চলে যায়।
নাহিদা।
তার নামটা মনে করলেই আমার শ্বাস একটু দ্রুত হয়ে যায়। অথচ আমরা কখনো একা কথা বলিনি।
আমি একজন বিবাহিত পুরুষ। আমার স্ত্রী আছে, সন্তান আছে। আমি ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করি। নামাজ পড়ি, আল্লাহকে ভয় করি।
তাহলে কেন নাহিদার কথা ভাবি?
আমি জানি এটা ভুল। আমি জানি এটা গুনাহ। কিন্তু আমার শরীর আমার কথা শোনে না।
যখন নাহিদা আমার পাশের ডেস্কে এসে কাজের কথা বলে, আমার হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়। তার চুলের গন্ধ আমার নাকে আসে। আমি ভাবি, এই মেয়েটার সাথে কেমন হতো যদি…
না। আমি এই চিন্তা করব না।
কিন্তু রাতে বিছানায় শুয়ে আমার মনে নাহিদার মুখ ভেসে ওঠে। আমি হ্যাপির পাশে শুয়ে অন্য একজনের কথা ভাবি। আমি নিজের কাছে ঘৃণিত হয়ে উঠি।
আমি কি একটা খারাপ স্বামী?
আমি হ্যাপিকে ভালোবাসি। আমি আরাশকে ভালোবাসি। কিন্তু এই ভালোবাসা কেন আমাকে নাহিদার প্রতি আকর্ষণ থেকে রক্ষা করতে পারে না?
আমি ইমামের কাছে গিয়েছিলাম। সরাসরি বলতে পারিনি। ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম, “বিবাহিত পুরুষের মন যদি অন্য নারীর প্রতি আকৃষ্ট হয়?”
ইমাম বলেছিলেন, “শয়তানের কুমন্ত্রণা। আল্লাহর কাছে তওবা কর। নফল নামাজ পড়।”
আমি নফল নামাজ পড়েছি। তওবা করেছি। কিন্তু পরদিন অফিসে গিয়ে নাহিদাকে দেখলে আবার সেই অনুভূতি।
আমার দাদা একবার বলেছিলেন, “পুরুষ মানুষের চোখে নিয়ন্ত্রণ রাখতে হয়।”
কিন্তু দাদা, চোখে নিয়ন্ত্রণ রাখলেই কি মনে নিয়ন্ত্রণ হয়?
আমি চেষ্টা করেছি নাহিদাকে এড়িয়ে চলতে। কিন্তু আমরা একই অফিসে কাজ করি। প্রতিদিন দেখা হয়।
আমি ভেবেছি অন্য চাকরি খোঁজার কথা। কিন্তু এই কারণে চাকরি ছাড়া কি ঠিক হবে?
একদিন নাহিদা আমাকে জিজ্ঞেস করল, “আপনি আজকাল খুব চুপচাপ থাকেন কেন?”
আমি কী বলব? যে আমি তোমার প্রতি আকৃষ্ট বলে নিজেকে দূরে রাখছি?
আমি বললাম, “কিছু চিন্তা-ভাবনা।”
“পারিবারিক সমস্যা?”
“হ্যাঁ, কিছুটা।”
নাহিদা বলল, “আপনি একটা ভালো মানুষ। আল্লাহ সব ঠিক করে দেবেন।”
তার এই কথায় আমার আরো কষ্ট হল। সে আমাকে ভালো মানুষ ভাবে। কিন্তু আমি তার সম্পর্কে কী ভাবি?
আমি বুঝলাম, এই আকর্ষণ কোনো ভালোবাসা নয়। এটা শুধু শারীরিক লালসা। নাহিদা আমার কাছে একটা নিষিদ্ধ ফল। নিষিদ্ধ বলেই হয়তো আকর্ষণীয়।
আমি যদি নাহিদাকে বিয়ে করতাম, হয়তো কয়েক বছর পর তার প্রতিও একই উদাসীনতা আসত যেটা এখন হ্যাপির প্রতি।
তাহলে কি সমস্যা আমার ভিতরে? আমি কি একজন অতৃপ্ত মানুষ?
আল্লাহ, আমি এই পরীক্ষায় ফেল করতে চাই না। আমি হ্যাপির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে চাই না।
কিন্তু আমার শরীর আমার আত্মার কথা শুনবে কেন?
একটু ভাবনা রেখে যান