“সবার সামনে নিজের পরিচয় দিন।”
বসের কথা শুনে পেট মোচড় দিয়ে উঠল। ইন্টারভিউতে পার পেয়েছি। কিন্তু এই পরীক্ষা আরও কঠিন।
উঠে দাঁড়ালাম। হাত কাঁপছে। গলা শুকিয়ে গেছে।
“আমি… আমি হায়দার আহমেদ।”
ঘরে নিরবতা। সবাই তাকিয়ে আছে। কী আর বলব?
“আমার বয়স ঊনচল্লিশ।”
কেন বয়সটা বললাম? দরকার ছিল? এখন সবাই ভাববে বুড়ো লোক এসেছে।
“আমি… আগে অন্য একটা কোম্পানিতে কাজ করতাম।”
কোন কোম্পানির নাম বলিনি। কারণ সেই কোম্পানি থেকে চাকরি হারিয়েছি।
“আমার স্ত্রী, এক ছেলে আছে।”
এসব বলার দরকার ছিল? অফিসের মানুষজন আমার পারিবারিক তথ্য জেনে কী করবে?
ঘরে এখনও নিরবতা। সবাই অপেক্ষা করছে আরও কিছু শোনার জন্য।
কী বলব? আমার যোগ্যতার কথা? কিন্তু যোগ্যতা তো ইন্টারভিউতে বলেছি। আমার স্বপ্নের কথা? স্বপ্ন তো নেই।
“আমি… আমি ভালো কাজ করার চেষ্টা করব।”
বসা কি এখন? নাকি আরও কিছু বলতে হবে?
“আপনাদের সাথে কাজ করতে ভালো লাগবে।”
এবার বসলাম। সবার চোখ এখনও আমার দিকে। কেউ হাসছে না। কেউ হাত তালি দিচ্ছে না।
পাশের চেয়ারে বসা মেয়েটা ফিসফিস করে বলল, “আর কিছু বলবেন না?”
আর কী বলব? আমি কে? কোথা থেকে এসেছি? কেন এসেছি?
আমি একজন সাধারণ মানুষ। কোনো বিশেষত্ব নেই। কোনো অসাধারণ কাহিনী নেই। তিনশো ষাট দিন ভাত খাই। রাতে ঘুমাই। সকালে উঠি।
“আমি… আমি মনে করি কাজই বড় কথা।”
এবার চুপ হয়ে গেলাম।
বস বললেন, “ভালো। আপনার ডেস্ক ওইটা। কাল থেকে কাজ শুরু।”
সবাই নিজের কাজে ফিরে গেল। আমি একা বসে রইলাম।
লাঞ্চের সময় একজন এসে বলল, “আপনি নতুন? কেমন লাগছে?”
“ভালো।” বললাম।
“আগে কোথায় কাজ করতেন?”
এই প্রশ্ন এড়িয়ে যেতে চাই। কিন্তু পারছি না।
“একটা ছোট কোম্পানিতে।”
“কেন ছেড়ে দিলেন?”
কী বলব? বলব চাকরি হারিয়েছি? বলব কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে? বলব ব্যক্তিগত কারণে?
“ব্যক্তিগত কারণে।” বললাম।
মিথ্যা কথা।
দিন শেষে বাড়ি ফিরে হ্যাপিকে বললাম, “প্রথম দিন ভালো গেছে।”
“কী করলে?”
“পরিচয় দিলাম। নতুন মানুষদের সাথে পরিচয়।”
“কেমন মানুষ?”
“ভালো।” বললাম।
আসলে জানি না। চিনি না। প্রথম দিনে কীভাবে বুঝব?
“তোমার মন খারাপ লাগছে কেন?” হ্যাপি জিজ্ঞেস করল।
মন খারাপ? হ্যাঁ, লাগছে। কিন্তু কেন?
হয়তো নতুন জায়গায় মানিয়ে নিতে সময় লাগে। হয়তো আমি খুব বেশি ভাবছি। হয়তো সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।
নাকি আমি আসলেই অন্য সবার চেয়ে আলাদা?
একটু ভাবনা রেখে যান