গতকাল একটা শার্ট কিনলাম। দাম ৮০০ টাকা। বিকাশ দিয়ে পেমেন্ট করলাম। এক সেকেন্ডে হয়ে গেল।
কিন্তু একটা অদ্ভুত অনুভূতি হলো। মনে হলো আমি কোনো টাকা দিইনি।
আগে যখন নগদ টাকা দিতাম, হাত থেকে নোট বের করতাম। গুনে দিতাম। ভাবতাম – এই টাকা দিয়ে দিলাম। এখন আমার কাছে কম টাকা আছে।
এখন শুধু ফোনে একটা নম্বর টাইপ করলাম। কোনো টাকা ছুঁলাম না। দেখলাম না। গুনলাম না।
আমি ভাবি – টাকা কি এখন শুধু একটা নম্বর?
আমাদের বাবা-মায়ের জমানায় টাকা মানে ছিল কিছু একটা। কাগজের নোট। ধাতুর কয়েন। হাতে ধরা যায়। গন্ধ পাওয়া যায়।
টাকা কামানো মানে ছিল কিছু একটা পাওয়া। টাকা খরচ করা মানে ছিল কিছু একটা হারানো।
এখন টাকা একটা ডিজিটাল সংখ্যা। ফোনের স্ক্রিনে লেখা।
আমি জিজ্ঞেস করি নিজেকে – আমি কি আসলেই বুঝতে পারি আমার কত টাকা আছে?
আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে একটা সংখ্যা লেখা আছে। বিকাশে আরেকটা সংখ্যা। নগদে আরেকটা।
কিন্তু এই সংখ্যাগুলো আমার কাছে real মনে হয় না।
হ্যাপি বলে, “ডিজিটাল পেমেন্ট সুবিধাজনক। লাইনে দাঁড়াতে হয় না।”
ঠিক কথা। কিন্তু আমি অন্য কিছু হারিয়ে ফেলেছি।
আগে যখন নগদ টাকা খরচ করতাম, একটা physical pain অনুভব করতাম। টাকা হাত থেকে চলে যাচ্ছে। পকেট খালি হচ্ছে।
এই pain আমাকে সচেতন রাখত। বেশি খরচ করতে বাধা দিত।
এখন সেই pain নেই। ডিজিটাল পেমেন্ট painless. তাই unconscious.
আমি লক্ষ করেছি – ডিজিটাল পেমেন্টে আমি বেশি খরচ করি। কারণ খরচের অনুভূতি হয় না।
নগদ টাকা দিলে আমি দেখি ১০০০ টাকার নোট ভেঙে ৮০০ টাকা দিচ্ছি। ২০০ টাকা ফেরত পাচ্ছি।
এই পুরো প্রক্রিয়াটা আমার মনে গেঁথে যায়। আমি মনে রাখি কত খরচ হলো।
ডিজিটাল পেমেন্টে শুধু একটা confirmation message আসে। “পেমেন্ট সফল।” ব্যস।
কত টাকা গেল, সেটা বুঝতে পারি না।
আরাশ একদিন বলল, “বাবা, আমাদের কাছে কোনো টাকা নেই?”
আমি বললাম, “আছে। ফোনে।”
সে বলল, “ফোনে টাকা কীভাবে থাকে?”
আমি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করলাম। কিন্তু নিজেই confused হয়ে গেলাম।
আসলেই তো – ফোনে টাকা কীভাবে থাকে?
আরাশের জন্য টাকা একটা abstract concept. সে কখনো টাকা ছুঁয়ে দেখেনি। গুনে দেখেনি।
তার কাছে টাকা মানে ফোনের একটা অ্যাপ।
আমি ভাবি – এটা কি ঠিক? একটা বাচ্চার টাকা সম্পর্কে এমন ধারণা থাকা?
টাকার সাথে আমাদের একটা emotional relationship ছিল। আমরা টাকা বাঁচাতাম। সযত্নে রাখতাম। গুনে গুনে খরচ করতাম।
টাকা হারালে কষ্ট পেতাম। টাকা পেলে খুশি হতাম।
এখন টাকা একটা virtual entity. আমাদের সাথে এর কোনো emotional connection নেই।
আমার মা টাকা রাখতেন আলমারিতে। কাপড়ের পকেটে। বাক্সে। সযত্নে গুটিয়ে।
আমি টাকা রাখি ফোনে। কোনো যত্ন নেই। কোনো সতর্কতা নেই।
মা জানতেন তার কাছে কত টাকা আছে। আমি জানি না।
মা টাকা খরচ করার আগে অনেক ভাবতেন। আমি ভাবি না।
এই যে financial awareness – এটা আমরা হারিয়ে ফেলেছি।
ডিজিটাল টাকা convenient. কিন্তু এটা আমাদের অসচেতন করে তুলেছে।
আমরা জানি না কত টাকা আছে। জানি না কত খরচ হচ্ছে। জানি না কোথায় টাকা যাচ্ছে।
সবকিছু automatic. আমাদের কোনো control নেই।
আমি এখন চেষ্টা করি মাসে একবার cash withdrawal করতে। নগদ টাকা হাতে নিতে।
সেই পুরনো অনুভূতি ফিরে আনার জন্য।
হাতে টাকা নিলে মনে হয় – এটা আমার। আমি এটা কামিয়েছি। আমি এটা বাঁচাব।
ডিজিটাল টাকা দেখলে মনে হয় – এটা একটা number. কম্পিউটারের file.
আমি আরাশকে শেখাচ্ছি – টাকার value বোঝতে। নগদ টাকা দিয়ে কেনাকাটা করতে।
যাতে সে বুঝতে পারে – টাকা কী। টাকার গুরুত্ব কী।
কারণ টাকা শুধু একটা সংখ্যা নয়। এটা আমাদের পরিশ্রমের ফল। আমাদের সময়ের বিনিময়।
ডিজিটাল ওয়ালেট এই reality আড়াল করে দেয়।
আমাদের মনে রাখতে হবে – টাকা virtual হলেও এর value real.
নতুবা আমরা সবাই financial illiterate হয়ে যাব।
আর financial illiteracy সবচেয়ে বড় দরিদ্রতা।
একটু ভাবনা রেখে যান