ব্লগ

আল্লাহর রহমতের আশা আর নিজের অযোগ্যতার যুদ্ধ

নভেম্বর ২০২৫ · 4 মিনিটে পড়া
শেয়ার

আল্লাহর ৯৯টি নামের মধ্যে “আর-রহমান” আর “আর-রহিম” সবার আগে। দয়ালু আর করুণাময়। এই নাম দুটো পড়লে মনে আশা জাগে। মনে হয় তিনি আমাকে ক্ষমা করবেন।

কিন্তু তারপরই মনে পড়ে আমার সব পাপের কথা। কত মিথ্যা বলেছি। কত মানুষকে ঠকিয়েছি। কত অন্যায় করেছি। এসব ভেবে মনে হয় আমি তার রহমতের যোগ্য নই।

এই দ্বিধায় পড়ে থাকি।

একদিকে কোরআনে পড়ি, “কুল ইয়া ইবাদিয়াল্লাজিনা আসরাফু আলা আনফুসিহিম লা তাকনাতু মির রহমাতিল্লাহ।” হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।

এই আয়াত পড়ে মনে সান্তবনা পাই।

কিন্তু অন্যদিকে পড়ি, “ইন্নাল্লাহা লা ইয়াগফিরু আঁ ইউশরাকা বিহি।” আল্লাহ শিরক ক্ষমা করেন না।

আমি কি শিরক করেছি? অফিসের বসকে আল্লাহর চেয়ে বেশি ভয় পাই। টাকাকে আল্লাহর চেয়ে বেশি ভালোবাসি। এগুলো কি শিরক?

যদি হয়, তাহলে আমি কি ক্ষমার অযোগ্য?

এই চিন্তা আমাকে ভয় দেয়।

নামাজের পর যখন দোয়া করি, মনে দ্বিধা থাকে। আমি কি আল্লাহর কাছে কিছু চাওয়ার যোগ্য? আমার মতো পাপী মানুষ কিভাবে তার কাছে হাত তুলতে পারে?

কিন্তু তারপর মনে পড়ে, আল্লাহই তো দোয়া করতে বলেছেন। “উদুনি আস্তাজিব লাকুম।” আমাকে ডাকো।

তিনি কি শর্ত দিয়েছেন যে শুধু ভালো মানুষেরা ডাকবে? দেননি।

তাহলে আমিও ডাকতে পারি।

কিন্তু ডাকার সময় লজ্জা লাগে। মনে হয় আমি ভীষণ বেয়াদব। যে তার অবাধ্যতা করেছে, সে আবার তার কাছে সাহায্য চাইছে।

এটা অনেকটা এমন যেন আমি কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করে তার কাছেই সাহায্য চাইছি।

তবে মানুষ আর আল্লাহর মধ্যে পার্থক্য আছে। মানুষ রাগ করে। আল্লাহ “আর-গফুর” – ক্ষমাশীল।

মানুষ প্রতিশোধ নেয়। আল্লাহ “আস-সবুর” – ধৈর্যশীল।

এই ভেবে মনে সান্তবনা পাই।

কিন্তু তারপর আবার মনে হয়, আমি কি তার ধৈর্যের অপব্যবহার করছি? জানি যে তিনি ক্ষমা করবেন বলে একই পাপ বার বার করছি?

এটা কি ঠিক?

হাদিসে পড়েছি, রাসুল (সা.) বলেছেন, “সব আদম সন্তান পাপী। আর সবচেয়ে ভালো পাপী হলো তারা যারা তওবা করে।”

এই হাদিস পড়ে মনে হয় আমি একা নই। সবাই পাপী। গুরুত্বপূর্ণ হলো তওবা করা।

কিন্তু তওবা কি শুধু মুখে “আস্তাগফিরুল্লাহ” বলা? নাকি সত্যিকারের অনুশোচনা?

আমার অনুশোচনা কি সত্যিকারের? নাকি ভয়ে ভয়ে?

মাঝে মাঝে মনে হয় আমার তওবা ভয়ের তওবা। ভালোবাসার তওবা নয়।

আল্লাহকে ভয় পাই বলে তওবা করি। তাকে ভালোবাসি বলে নয়।

এই ভয় আর ভালোবাসার মধ্যে পার্থক্য কী?

ভয়ের তওবা হলো, “আল্লাহ শাস্তি দেবেন, তাই তওবা করি।”

ভালোবাসার তওবা হলো, “আল্লাহর অবাধ্যতা করে তার কষ্ট দিয়েছি, তাই তওবা করি।”

আমার তওবা কোন ধরনের?

সত্যি কথা বলতে, বেশিরভাগ সময়ই ভয়ের তওবা।

কিন্তু এটাও কি ভুল? ভয়ও তো আল্লাহর একটা গুণ। “আল-কাহ্হার” – পরাক্রমশালী।

তিনি চান তার বান্দারা তাকে ভয় করুক। সাথে সাথে ভালোবাসুক।

দুটো একসাথে থাকলে ভারসাম্য হয়।

আমার মধ্যে ভয় আছে। ভালোবাসা কম। এই অসামঞ্জস্য ঠিক করতে হবে।

আল্লাহর কাছে দোয়া করি, “হে আল্লাহ, আমি জানি আমি আপনার রহমতের যোগ্য নই। কিন্তু আপনিই আমাকে যোগ্য বানান। আমাকে এমন বান্দা বানান যে আপনার রহমত পাওয়ার যোগ্য।”

এই দোয়া করার পর মনে হয় আমি সঠিক পথে আছি।

কারণ নিজের অযোগ্যতা স্বীকার করাটাই তো আসল যোগ্যতা।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *