ব্লগ

চশমার আড়ালে অন্ধত্বের ভয়

নভেম্বর ২০২৫ · 2 মিনিটে পড়া
শেয়ার

ডাক্তার বললেন, “আপনার চশমা লাগবে। মাইনাস ২.৫।”

আমি চশমা পরে আয়নায় দেখি। আমাকে বুড়ো লাগে।

“এই চশমা সারাজীবন পরতে হবে?”

“হ্যাঁ। আর পাওয়ার বাড়তে পারে।”

বাড়তে পারে মানে? আমি ধীরে ধীরে অন্ধ হয়ে যাব?

ডাক্তার আমার ভয় বুঝতে পারেন।

“চিন্তার কিছু নেই। এটা স্বাভাবিক বয়সজনিত সমস্যা।”

স্বাভাবিক। কিন্তু আমার কাছে ভয়ানক লাগে।

বাড়িতে এসে আমি চশমা খুলে রাখি। কিছুই স্পষ্ট দেখি না। আরাশের মুখ ঝাপসা। হ্যাপির মুখ ঝাপসা।

আমি ভাবি, বছর কয়েক পর আমি কি একেবারেই দেখতে পাব না?

আমার মনে পড়ে আমার এক আত্মীয়ের কথা। তিনি শেষ বয়সে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। মানুষকে চিনতে পারতেন না।

আমিও কি সেই পথে?

আমি চশমা পরে আবার দেখি। সব কিছু পরিষ্কার। কিন্তু এই পরিষ্কার দেখা কত দিন থাকবে?

আরাশ জিজ্ঞেস করে, “বাবা, তোমাকে চশমায় অদ্ভুত লাগছে।”

“খারাপ লাগছে?”

“না। কিন্তু আলাদা।”

আলাদা। আমিও নিজেকে আলাদা মনে করি।

রাতে আমি ভাবি, আমি যদি অন্ধ হয়ে যাই, তাহলে কী করব? লেখালেখি করতে পারব না। আরাশের মুখ দেখতে পাব না।

আমার ভয় লাগে।

আমি অন্ধদের সম্পর্কে পড়ি। তারা কীভাবে বাঁচে। ব্রেইল শেখে। লাঠি দিয়ে চলে।

আমিও কি শিখব?

হ্যাপি বলে, “তুমি কেন এত চিন্তা করছ? ডাক্তার তো বলেছেন সাধারণ সমস্যা।”

“কিন্তু যদি আরো খারাপ হয়?”

“তখন দেখা যাবে।”

হ্যাপি সহজভাবে নেয়। কিন্তু আমি পারি না।

আমি প্রতিদিন চশমা পরে ভাবি, আজ কি আগের চেয়ে কম দেখছি?

এই ভয় আমার মাথা থেকে যায় না।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *