গতকাল মৃদুলের জন্মদিন ছিল। ফেসবুকে শুভেচ্ছা জানালাম। তার সাথে আরও ২০০ জন।
কিন্তু আসলে মৃদুলের সাথে কবে শেষ কথা হয়েছে? মাস ছয়েক আগে। তাও কাজের বিষয়ে।
আমার ফেসবুকে ৫০০ বন্ধু। কিন্তু আসল বন্ধু কয়জন?
এই প্রশ্নটা আমাকে ভাবায়।
আজকাল আমরা সবার সাথে যুক্ত। সবার খবর জানি। কে কী খেল, কোথায় গেল, কী পড়ল। কিন্তু কারো সাথে আসল কথা বলি না।
জামিউরের সাথে গত সপ্তাহে দেখা। সে বলল, “অনলাইনে তো সবসময় দেখি তোমাকে। কিন্তু কথা বলি না।”
ঠিক কথা। আমরা একে অপরের পোস্ট দেখি। প্রতিক্রিয়া দিই। কিন্তু কথা বলি না।
এই যে দূরত্ব – এটা কেন হচ্ছে?
আমি বুঝতে পারি – সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের একটা ভ্রম দেয়। মনে হয় আমরা সবার সাথে সংযুক্ত। কিন্তু আসলে আমরা একা।
পোস্ট দেখা আর কথা বলা এক জিনিস নয়। লাইক দেওয়া আর ভালোবাসা এক জিনিস নয়।
আরাশ একদিন প্রশ্ন করল, “বাবা, তোমার এত বন্ধু। তাহলে তুমি একা কেন?”
আমি থতমত খেয়ে গেলাম। সত্যি তো। এত বন্ধু থাকতে আমি একা কেন অনুভব করি?
কারণ অনলাইনের বন্ধুত্ব surface level-এ থাকে। গভীরে যায় না।
আমি জানি মৃদুল কী খেয়েছে। কিন্তু জানি না তার মন কেমন আছে।
জানি সাইফুল কোথায় ঘুরতে গেছে। কিন্তু জানি না তার কোনো সমস্যা আছে কিনা।
এই যে surface-এ থাকা, এটাই আমাদের একা করে দেয়।
আগের জমানায় বন্ধুরা মুখোমুখি বসে কথা বলত। সমস্যা শেয়ার করত। আনন্দ-দুঃখ ভাগ করত।
এখন আমরা ছবি শেয়ার করি। মতামত শেয়ার করি। কিন্তু অনুভূতি শেয়ার করি না।
হ্যাপি বলে, “তোমার বন্ধুদের কল করো। দেখা করো।”
আমি বলি, “ওরা ব্যস্ত। আমিও ব্যস্ত।”
কিন্তু আসল কথা – আমরা ভুলে গেছি কীভাবে আসল বন্ধুত্ব করতে হয়।
অনলাইনে সবকিছু সহজ। এক ক্লিকে লাইক। এক ক্লিকে শেয়ার। কিন্তু আসল বন্ধুত্বে সময় লাগে। ধৈর্য লাগে।
আমি লক্ষ করেছি – যারা সবচেয়ে বেশি অনলাইনে থাকে, তারা সবচেয়ে বেশি একা।
কারণ তারা virtual world-এ এত সময় দেয় যে real world-এর জন্য সময় থাকে না।
আমার এক বন্ধু আছে। তার হাজারো অনুসারী। কিন্তু কোনো ঘনিষ্ঠ বন্ধু নেই। সে বলেছিল, “সবাই আমাকে চেনে। কিন্তু কেউ আমাকে জানে না।”
এটাই সমস্যা। চেনা আর জানার মধ্যে পার্থক্য আছে।
অনলাইনে সবাই সবাইকে চেনে। কিন্তু কেউ কাউকে জানে না।
আমি এখন চেষ্টা করি মাসে একবার করে পুরনো বন্ধুদের ফোন দিতে। দেখা করতে।
প্রথমে অস্বস্তি লাগে। কী বলব? কীভাবে শুরু করব?
কিন্তু একবার কথা শুরু হলে বুঝি – আসল বন্ধুত্ব কখনো মরে যায় না। শুধু ধুলো পড়ে।
অনলাইনের চেয়ে একটা ফোন কল অনেক বেশি কার্যকর। একটা সরাসরি দেখা অনেক বেশি অর্থবহ।
কারণ বন্ধুত্ব শুধু তথ্য আদান-প্রদান নয়। এটা আবেগ আদান-প্রদান।
আর আবেগ কোনো স্ক্রিনে আসে না। আসে উপস্থিতিতে।
অনলাইনে আমাদের হাজার বন্ধু থাকতে পারে। কিন্তু অফলাইনে একজন সত্যিকারের বন্ধুই যথেষ্ট।
কারণ virtual বন্ধুত্ব তথ্য দেয়। কিন্তু real বন্ধুত্ব সান্ত্বনা দেয়।
আর সান্ত্বনাই একাকীত্বের একমাত্র ওষুধ।
একটু ভাবনা রেখে যান