সকালে অফিসে বসতে না বসতেই বসের ইমেইল। সাবজেক্ট লাইনে লেখা “URGENT”। খুলে দেখি একটা রিপোর্ট আজকেই করতে হবে। “Very urgent, need by EOD today।” মনে হল এটাই পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কিন্তু দুপুরে আরেকটা আর্জেন্ট কাজ এসেছে। সন্ধ্যায় আরো একটা। এভাবে প্রতিদিন তিন-চারটা আর্জেন্ট কাজ।
একটা প্রশ্ন মনে আসে – যদি সব কিছুই আর্জেন্ট, তাহলে আসলে কিছুই আর্জেন্ট না। কিন্তু বস এই ফিলোসফি বুঝবেন না।
এই “আর্জেন্ট” শব্দটা যেন একটা জাদুকরী মন্ত্র। এটা শুনলেই আমার সব পরিকল্পনা ভেঙে যায়। যে কাজটা করছিলাম, সেটা রেখে নতুন কাজ শুরু করতে হয়।
কিন্তু মজার ব্যাপার হল, গতকালের “আর্জেন্ট” কাজটা আজ আর কেউ মনেও রাখেনি। যেটা নিয়ে এত তাড়াহুড়ো ছিল, সেটা হয়তো ফাইলের স্তূপে পড়ে আছে।
আল্লাহর কাছে প্রশ্ন করি, “এই আর্জেন্ট কাজগুলো কি সত্যিই এত জরুরি? নাকি আমাদের কর্মসংস্থানে একটা সিস্টেম ফেইলিওর আছে?”
জামিউর বলে, “আমাদের অফিসে প্ল্যানিং নেই। তাই সব কিছুই শেষ মুহূর্তে আর্জেন্ট হয়ে যায়।” কিন্তু এই সিস্টেমের শিকার হই আমরা সাধারণ কর্মচারীরা।
একদিন হিসেব করে দেখেছিলাম। এই মাসে আমি ১৫টা “আর্জেন্ট” কাজ করেছি। তার মধ্যে কতটা সত্যিই জরুরি ছিল? হয়তো দুই-তিনটা।
আর্জেন্ট কাজের কারণে আমার নিয়মিত কাজ পিছিয়ে যায়। যে প্রজেক্টে একটানা কাজ করছিলাম, সেটা বাধাগ্রস্ত হয়। কাজের ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়।
বাড়ি গিয়ে হ্যাপিকে বলি, “আজ অনেক আর্জেন্ট কাজ ছিল।” সে বলে, “প্রতিদিনই তো বল একই কথা।” সত্যিই তো। আমার জীবনে আর্জেন্ট নয় এমন কাজ কি আছে?
এই আর্জেন্ট কাজের চাপে আমি হারিয়ে ফেলেছি দীর্ঘমেয়াদী চিন্তাভাবনা করার ক্ষমতা। সবসময় আজকে কি করতে হবে, এখনি কি করতে হবে – এই চিন্তায় ডুবে থাকি।
আরাশ বলেছিল, “আব্বু, আপনার অফিসে কি কোনো প্ল্যান নেই?” বাচ্চার প্রশ্নেও যুক্তি আছে। প্ল্যান থাকলে তো এত আর্জেন্ট কাজ হত না।
এখন চেষ্টা করি প্রতিটা আর্জেন্ট কাজের আসল প্রয়োজনীয়তা বুঝতে। কোনটা সত্যিই জরুরি, কোনটা শুধু তাড়াহুড়োর কারণে আর্জেন্ট মনে হচ্ছে।
একটু ভাবনা রেখে যান