“আমার একটা বুটিক শপ খোলার ইচ্ছা ছিল,” সে বলল।
আমি চায়ে চুমুক দিয়ে বললাম, “হুম।”
“এখনো আছে।”
আমি কিছু বললাম না।
“তুমি কী মনে কর?”
আমি জানি না কী বলব।
আমার কাছে ২০ লক্ষ টাকা নেই বুটিক শপের জন্য।
আমার কাছে ৫ লক্ষ টাকাও নেই।
আমার কাছে আছে প্রতি মাসের বেতন। সেটা দিয়ে সংসার চলে।
তার স্বপ্ন চলে না।
“দেখা যাক,” বলে এড়িয়ে গেলাম।
কিন্তু সে বুঝে গেল।
তার চোখে হতাশার ছায়া পড়ল।
আমি একজন ব্যর্থ স্বামী।
আমি আমার স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণ করতে পারি না।
তার ইচ্ছা থাকলেও আমার সামর্থ্য নেই।
সে অনেক দিন পর একবার সাহস করে বলেছিল।
আমি সেই সাহসকে ভেঙে দিলাম।
“দেখা যাক” মানে “না।”
আমরা দুজনেই জানি।
তার আরো স্বপ্ন আছে।
ঘুরতে যাওয়ার স্বপ্ন।
একটা নতুন শাড়ির স্বপ্ন।
একটা নতুন ঘরের স্বপ্ন।
কিন্তু সে আর বলে না।
কারণ জানে, আমার উত্তর কী হবে।
আমিও তার স্বপ্নের কথা জিজ্ঞেস করি না।
কারণ জানি, আমি কিছু করতে পারব না।
এই অসহায়ত্ব আমাকে খেয়ে ফেলছে।
একজন পুরুষ যখন তার স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণ করতে পারে না, তখন সে পুরুষ থাকে?
নাকি একটা ব্যর্থতার প্রতীক হয়ে যায়?
আমি চাকরি বদলানোর চেষ্টা করেছি। বেতন বাড়ানোর চেষ্টা করেছি।
কিন্তু আমার যোগ্যতা সীমিত।
আমার সাহস সীমিত।
আমার বয়সও বেড়েছে।
এখন আর নতুন করে শুরু করা কঠিন।
তার স্বপ্নগুলো আমার কাছে অভিযোগের মতো।
যে অভিযোগের কোনো উত্তর নেই।
আমি একটা অকর্মণ্য স্বামী।
প্রেম করতে পারি। কিন্তু প্রেম পূরণ করতে পারি না।
ভালোবাসতে পারি। কিন্তু ভালোবাসা দিতে পারি না।
তার সাথে থাকতে পারি। কিন্তু তার জন্য কিছু করতে পারি না।
এই অসহায়ত্ব আমার মর্যাদা কেড়ে নিয়েছে।
নিজের চোখেই আমি ছোট হয়ে গেছি।
আমি জানি সে আমাকে দোষ দেয় না।
কিন্তু আমি নিজেই নিজেকে দোষ দিই।
প্রতিদিন।
প্রতি মুহূর্তে।
একটু ভাবনা রেখে যান