স্বপ্নে দেখলাম দেয়াল ভেদ করে হেঁটে যাচ্ছি। ইট-কংক্রিট আমার শরীর আটকাতে পারে না। সেই মুহূর্তে এটা পুরোপুরি স্বাভাবিক লাগছিল।
জেগে উঠে ভাবি—এই অসম্ভব জিনিস স্বপ্নে কেন সম্ভব?
স্বপ্নে উড়েছি। মাছের সাথে কথা বলেছি। সময় পিছনে ঘুরিয়েছি। মৃত মানুষের সাথে আড্ড় দিয়েছি। প্রতিবারই মনে হয়েছে—এটাই বাস্তব।
স্বপ্নের জগতে পদার্থবিদ্যার নিয়ম খাটে না।
গতকাল স্বপ্নে দেখলাম নিজেকে দুই জায়গায় একসাথে। একটা আমি অফিসে কাজ করছি। অন্য আমি বাড়িতে আরাশের সাথে খেলছি। দুই জায়গার অনুভূতি একসাথে।
স্বপ্নে কি সমান্তরাল জীবন সম্ভব?
স্বপ্নে দেখেছি আমার হাতে অবিশ্বাস্য শক্তি। পাহাড় তুলেছি। সমুদর শুকিয়েছি। আগুনে হাত দিয়েছি, পুড়িনি।
অসীম ক্ষমতার স্বাদ পেয়েছি।
এক স্বপ্নে দেখলাম সব ভাষা জানি। চীনা, আরবি, ফ্রেঞ্চ—সব সাবলীলভাবে বলছি। অথচ জাগ্রত অবস্থায় ইংরেজি ছাড়া আর কিছু পারি না।
স্বপ্নে কি সব জ্ঞান একসাথে এসে যায়?
স্বপ্নে দেখেছি নিজেকে আলোর গতিতে ছুটছি। মহাকাশ পাড়ি দিচ্ছি। গ্রহ থেকে গ্রহে লাফিয়ে বেড়াচ্ছি। সেই গতিতে কোনো অসুবিধা নেই।
স্বপ্নে কি আইনস্টাইনের সূত্র বাতিল?
একবার স্বপ্নে দেখলাম সময়কে থামিয়েছি। পুরো পৃথিবী স্থির। শুধু আমি চলমান। মানুষ বাতাসে ঝুলে আছে। পাখি আকাশে স্থির।
সময়ের মালিক হওয়ার অনুভূতি।
স্বপ্নে শরীর বদলেছি। কখনো পশু, কখনো পাখি, কখনো গাছ। প্রতিটি রূপে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অনুভব।
পরিচয়ের সীমানা স্বপ্নে থাকে না।
কিছু স্বপ্নে দেখেছি অন্যের মন পড়তে পারি। কী ভাবছে, কী অনুভব করছে—সব জানি। টেলিপ্যাথি যেন।
চেতনার যোগাযোগ কি স্বপ্নে সম্ভব?
স্বপ্নে দেখেছি নিজের শরীর থেকে বেরিয়ে এসে নিজেকে দেখছি। উপর থেকে তাকিয়ে শুয়ে থাকা শরীর দেখি।
আত্মা কি শরীর থেকে আলাদা স্বপ্নে?
সবচেয়ে অবিশ্বাস্য স্বপ্ন—দেখলাম মৃত্যুর পরের জীবন। আলাদা এক জগৎ। ভিন্ন নিয়মকানুন। কিন্তু পুরোপুরি বাস্তব মনে হচ্ছিল।
স্বপ্ন কি মৃত্যুর পূর্বাভাস?
জেগে উঠে প্রশ্ন জাগে—এই অসম্ভব জিনিসগুলো কি সত্যিই অসম্ভব? নাকি আমাদের সীমিত বোঝাপড়া?
পদার্থবিদ্যা বলে কোয়ান্টাম স্তরে অসম্ভব জিনিস সম্ভব। একই কণা দুই জায়গায় থাকতে পারে।
স্বপ্ন কি কোয়ান্টাম জগতের ঝলক?
হয়তো স্বপ্নে আমরা এমন সব সম্ভাবনা দেখি যা বাস্তবে এখনো আবিষ্কার হয়নি।
কল্পনা আজকের অসম্ভব, আগামীর সম্ভব।
একটু ভাবনা রেখে যান