
অ্যালার্ম বাজে।
মানুষ শুয়ে থাকে।
জানে উঠতে হবে। তবু ওঠে না। কারণ উঠে কী হবে সেটাও জানে। একই। গতকালের মতো। পরশুর মতো। তিরিশ বছর আগের মতো।
এটাকে অলসতা বলে না। এটা হলো আত্মার ক্লান্তি।
শরীর ঘুমায়। আত্মা জাগে। এবং আত্মা জানে — আজও একই। কাল একই। মৃত্যু পর্যন্ত একই।
আয়নায় তাকায় মানুষ। চেনে না নিজেকে। চোখের নিচে কালি। দাড়ি বেড়েছে। এই মুখ কার? কোনো উত্তর নেই।
দাঁত ব্রাশ করে। গতকালও করেছে। আগামীকালও করবে। তারপর একদিন মরে যাবে। আর করতে হবে না।
এটাই জীবন।
মানুষ জিজ্ঞেস করে — “কেমন আছ?” মানুষ বলে — “ভালো।” মিথ্যা। কিন্তু সত্য বলা যায় না। সত্য হলো — “আমি জানি না কেন বেঁচে আছি।” এটা বললে মানুষ ভয় পায়। তাই সবাই “ভালো” বলে। এবং একা একা ডুবতে থাকে।
বন্ধু বলে — “এটাই তো জীবন।” ঠিক বলেছে। এটাই জীবন। পুনরাবৃত্তি। প্রতিদিন। মৃত্যু পর্যন্ত। এবং মানুষ এটা মেনে নিয়েছে। প্রশ্ন করে না।
কিন্তু যে করে?
যে প্রশ্ন করে — “কেন?” — সে ডুবে যায়।
কারণ উত্তর নেই।
শিশু জানে না কেন বেঁচে আছে। কিন্তু সেটা নিয়ে ভাবে না। ভালো লাগে। সেটাই যথেষ্ট।
বড় হওয়া মানে কী? বড় হওয়া মানে “কেন” শেখা। এবং “কেন” শেখাই ধ্বংস।
প্রশ্ন বিষের মতো। ধীরে কাজ করে। একদিন দেখা যায় — শুধু প্রশ্ন বাকি। মানুষটা নেই।
ভার কী? ভার হলো অস্তিত্ব। বেঁচে থাকার ভার। জেগে ওঠার ভার। আরেকটা একই দিন শুরু করার ভার।
তাহলে উপায় কী?
উপায় নেই।
উপায় হলো — থাকা। ভার আসে। থাকো। চলে যায়। থাকো। আবার আসে। থাকো।
এই-ই।
এর বাইরে কিছু নেই।
একদিন সকালে সূর্য ওঠে। আকাশ লাল হয়। এক সেকেন্ডের জন্য প্রশ্ন থামে। ভার কমে। সেই এক সেকেন্ডে শুধু আছে। প্রশ্ন নেই। মানে নেই। শুধু লাল আকাশ।
এটুকুই।
জীবনের মানে হয়তো কোনো মানে নেই। হয়তো মানে খোঁজাটাই ভুল। হয়তো সুন্দর হলো বিরতি। ভারের মাঝে বিরতি। প্রশ্নের মাঝে বিরতি।
এক সেকেন্ড।
এবং সেই এক সেকেন্ডের জন্যই — আবার উঠতে হয়। দাঁত ব্রাশ করতে হয়। আবার। আবারও।
যথেষ্ট কিনা জানি না।
কিন্তু এটুকুই আছে।

একটু ভাবনা রেখে যান