মসজিদ থেকে ফেরার পথে হঠাৎ নিজেকে প্রশ্ন করলাম, আমি কি সত্যিই আছি? নাকি শুধু মনে করছি যে আছি? আমার অস্তিত্বের প্রমাণ কী? জন্মসনদ? জাতীয় পরিচয়পত্র? নাকি এই হাঁটার শব্দ?
প্রতিদিন আমি নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করি। অফিসে গিয়ে হাজিরা দেই। বস্ আমাকে দেখে। সহকর্মীরা আমার সাথে কথা বলে। তাহলে আমি আছি, তাই না?
কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয় আমি একটা ভূত। সবাই আমাকে দেখে কিন্তু কেউ আমাকে অনুভব করে না। আমি কথা বলি কিন্তু কেউ শোনে না। আমি আছি কিন্তু আমার কোনো প্রভাব নেই।
হ্যাপিকে জিজ্ঞেস করলাম, “আমি কি আছি?” ও হেসে বলল, “পাগল হয়ে গেছ নাকি?” কিন্তু আমি পাগল হইনি। আমি শুধু জানতে চাই আমার অস্তিত্ব আছে কিনা।
আরাশকে বললাম, “তুই কি আমাকে দেখতে পাস?” ও বলল, “হ্যাঁ আব্বু।” কিন্তু ও কি সত্যিই আমাকে দেখে? নাকি শুধু একটা আকৃতি দেখে?
আয়নায় নিজেকে দেখি। একটা প্রতিবিম্ব দেখি। কিন্তু এই প্রতিবিম্বই কি আমার অস্তিত্বের প্রমাণ? নাকি এটাও একটা ভ্রম?
আমার ছায়া মাটিতে পড়ে। এই ছায়া কি প্রমাণ করে যে আমি আছি? নাকি ছায়া শুধু আলোর অভাব?
আমি কথা বলি। আমার গলার স্বর বাতাসে ভেসে যায়। এই স্বর কি আমার অস্তিত্বের প্রমাণ? নাকি শুধু কম্পন?
আমার হৃদযন্ত্র চলে। রক্ত প্রবাহিত হয়। শ্বাস নেই। এগুলো কি প্রমাণ করে যে আমি বেঁচে আছি? নাকি এগুলো শুধু যন্ত্রের কাজ?
আল্লাহর কাছে দোয়া করি। আল্লাহ কি আমার কথা শোনেন? আমার দোয়া কি আল্লাহর কাছে পৌঁছায়? তাহলে আমি আছি। কিন্তু আমি জানি না আল্লাহ আমার কথা শুনেছেন কিনা।
আমি ব্যথা অনুভব করি। শারীরিক ব্যথা, মানসিক ব্যথা। এই ব্যথা কি আমার অস্তিত্বের প্রমাণ? কিন্তু ব্যথাও তো একটা অনুভূতি। অনুভূতিও কি ভ্রম হতে পারে?
আমার স্মৃতি আছে। ছোটবেলার স্মৃতি, বাবার স্মৃতি। এই স্মৃতিগুলো কি প্রমাণ করে যে আমি আছি? নাকি এগুলো কল্পনা?
আমি স্বপ্ন দেখি। রাতে ঘুমের মধ্যে নানা রকম স্বপ্ন। এই স্বপ্নগুলো কি আমার অস্তিত্বের প্রমাণ? নাকি স্বপ্নই আমার আসল অস্তিত্ব?
আমি ভয় পাই। মৃত্যুর ভয়, ব্যর্থতার ভয়। এই ভয় কি প্রমাণ করে যে আমি আছি? নাকি যে নেই সেও ভয় পেতে পারে?
আমি ভালোবাসি। হ্যাপিকে ভালোবাসি, আরাশকে ভালোবাসি। এই ভালোবাসা কি আমার অস্তিত্বের প্রমাণ? কিন্তু ভালোবাসা তো একটা অনুভূতি। অনুভূতি কি বাস্তব?
আমি রাগ করি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অসহায়তার বিরুদ্ধে। এই রাগ কি প্রমাণ করে যে আমি আছি? নাকি রাগও একটা ভ্রম?
আমি সিদ্ধান্ত নেই। ছোট বড় অনেক সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কি আমার অস্তিত্বের প্রমাণ?
কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, আমি যদি আমার অস্তিত্বের প্রমাণ খুঁজি, তাহলে যে খুঁজছে সে কে? আমি যদি না-ই থাকি, তাহলে কে এই প্রশ্ন করছে?
হয়তো এই প্রশ্ন করাটাই আমার অস্তিত্বের প্রমাণ। যে নেই সে নিজেকে নিয়ে প্রশ্ন করে না।
আর হয়তো এই অন্তহীন খোঁজাটাই আমার অস্তিত্ব। আমি আছি কারণ আমি নিজেকে খুঁজি।
রাতে ঘুমানোর আগে ভাবি, আগামীকাল আবার এই একই প্রশ্ন নিয়ে জেগে উঠব। আবার খুঁজব আমার অস্তিত্বের প্রমাণ।
আর এই খোঁজার মধ্যেই হয়তো লুকিয়ে আছে আমার প্রকৃত অস্তিত্ব।
একটু ভাবনা রেখে যান