বাসের জানালা দিয়ে তাকিয়ে হঠাৎ ভাবলাম, আমি কি সত্যিই আছি? নাকি শুধু কিছু রেজিস্ট্রি বইয়ে আমার নাম লেখা আছে? জন্ম নিবন্ধনে আছি, ভোটার তালিকায় আছি, স্কুলের রেজিস্ট্রারে আছি। কিন্তু বাস্তবে আমার কোনো অস্তিত্ব আছে কি?
অফিসে আমার নাম আছে কর্মচারীদের তালিকায়। কিন্তু কেউ আমার মতামত চায় না। আমার উপস্থিতি কেউ খেয়াল করে না। আমি থাকি বা না থাকি, কাজ একই রকম চলে।
ব্যাংকে আমার অ্যাকাউন্ট আছে। কিন্তু ব্যাংক ম্যানেজার আমাকে চেনে না। কর্মচারীরা আমাকে নম্বর দিয়ে ডাকে। আমি একটা অ্যাকাউন্ট নম্বর, মানুষ না।
হাসপাতালে আমার ফাইল আছে। রোগীর তালিকায় নাম আছে। কিন্তু ডাক্তার আমার দিকে তাকায় না। শুধু ফাইল দেখে ওষুধ লিখে দেয়।
ভোটার তালিকায় আমার নাম আছে। কিন্তু কোনো প্রার্থী আমার কাছে ভোট চাইতে আসে না। আমার মতামত কারো দরকার নেই।
আরাশের স্কুলে আমার নাম আছে অভিভাবকদের তালিকায়। কিন্তু শিক্ষকরা আমার সাথে কথা বলে না। শুধু ফি এর সময় ডাকে।
পাড়ায় আমার নাম আছে বাড়ির মালিকদের তালিকায়। কিন্তু কেউ আমার সাথে সামাজিকতা করে না। আমি একটা ঠিকানা, মানুষ না।
আল্লাহর কাছে দোয়া করি, “হে আল্লাহ, আমি কি তোমার কাছে আছি? নাকি শুধু কিছু রেজিস্ট্রিতে আছি?”
সবচেয়ে বিচিত্র ব্যাপার হলো, আমি মারা গেলে সেই রেজিস্ট্রি বইগুলোতেই আমার নাম থেকে যাবে। মৃত্যু নিবন্ধনে নাম উঠবে। কিন্তু আমার প্রকৃত অস্তিত্ব কেউ মনে রাখবে না।
হ্যাপি বলে, “তুমি আমার কাছে আছ।” কিন্তু আমি জানি না সেও আমাকে দেখে নাকি আমার ভূমিকা দেখে। স্বামীর ভূমিকা, বাবার ভূমিকা।
আরাশ বলে, “আব্বু।” কিন্তু ও কি আমাকে ডাকে নাকি আব্বু নামের একটা চরিত্রকে?
আমার মনে হয় আমি একটা কাগজি মানুষ। শুধু কাগজে আছি, বাস্তবে নেই। মানুষরা আমার কাগজপত্র দেখে, আমাকে দেখে না।
কখনো কখনো মনে হয় আমি একটা ভূত। সবাই জানে আমি আছি, কিন্তু কেউ অনুভব করে না।
রেজিস্ট্রি বইয়ে আমার নাম কালো কালিতে লেখা। কিন্তু আমার অস্তিত্ব ক্রমশ ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছে।
একদিন হয়তো সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যাব। কিন্তু রেজিস্ট্রি বইয়ে নাম থেকে যাবে। ভবিষ্যতের কেউ দেখে ভাববে, হায়দার নামে একজন ছিল।
কিন্তু আমি সত্যিই ছিলাম কি না, সেটা আর জানা যাবে না।
একটু ভাবনা রেখে যান