ব্লগ

তওবার পর আবার পাপে ফেরার অভিশপ্ত চক্র

নভেম্বর ২০২৫ · 4 মিনিটে পড়া
শেয়ার

গতকাল রাতে তওবা করেছিলাম। আল্লাহর কাছে হাত তুলে বলেছিলাম, “আর কখনো এই কাজ করব না। আপনার কসম, আর করব না।”

আজ সকালে আবার সেই কাজ করেছি।

অফিসে একটা ফাইল এসেছিল। ভুল তথ্য দিয়ে ফেরত দিয়েছি। জানি এটা মিথ্যা। কিন্তু করেছি। কাজের চাপে, সময়ের অভাবে।

এখন বসে আছি। মনে ভয়ংকর অপরাধবোধ।

এটা কততম বার? কতবার তওবা করেছি? কতবার ভেঙেছি?

মনে পড়ে, ছোটবেলায় মা বলতেন, “তওবা করলে আল্লাহ মাফ করে দেন।” কিন্তু যদি তওবার পর আবার একই পাপ করি, তাহলে সেই তওবা কি মিথ্যা হয়ে যায়?

আমার মনে হয় আমি আল্লাহর সাথে খেলা করছি। বার বার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, বার বার ভাঙছি।

কোরআনে পড়েছি, “ওয়াল্লাজিনা ইজা ফা’আলু ফাহিশাতান আও জালামু আনফুসাহুম জাকারুল্লাহ।” যারা কোনো অন্যায় করে ফেলে, তারা আল্লাহকে স্মরণ করে। কিন্তু আমি কি সত্যিই স্মরণ করি? নাকি শুধু ভয়ে তওবা করি?

রাতে ঘুমানোর আগে যখন তওবা করি, তখন মনে হয় আমি সত্যিই পাল্টে যাব। সকালে উঠে মনে হয় আমি নতুন মানুষ। কিন্তু দুপুরে আবার সেই পুরনো অভ্যাস।

এটা কি আমার চরিত্রের দুর্বলতা? নাকি সবার সাথেই হয়?

হ্যাপিকে বলতে পারি না। বললে সে কী ভাববে? ভাববে আমি একটা মিথ্যুক।

আরাশকে তো আরোই বলতে পারি না। সে তার বাবাকে ভালো মানুষ ভাবে। আমি যদি বলি আমি প্রতিদিন মিথ্যা বলি, তাহলে তার কী প্রতিক্রিয়া হবে?

মাঝে মাঝে মনে হয় আমি একটা দোলনায় বসে আছি। একদিকে ইমান, আরেকদিকে পাপ। কখনো এদিকে, কখনো ওদিকে।

অফিসের পরিবেশ এমন যে মিথ্যা না বললে কাজ চলে না। সত্য বললে সমস্যা হয়। এই অবস্থায় আমি কী করব?

চাকরি ছাড়তে পারি না। পরিবার চালাতে হবে। তাহলে কি আমাকে সারাজীবন এই পাপের মধ্যেই থাকতে হবে?

আমি ইসলামিক বই পড়েছি। সেখানে লেখা আছে, “আল্লাহ বান্দার তওবা পছন্দ করেন।” কিন্তু কোন তওবা? যে তওবা আমি বার বার ভাঙি?

মনে পড়ে, রাসুল (সা.) বলেছেন, “যে তওবা করে আবার পাপ করে, সে যেন আল্লাহর সাথে খেলা করে।” আমি কি তাহলে আল্লাহর সাথে খেলা করছি?

কিন্তু আমি খেলা করতে চাই না। আমি সত্যিই বদলাতে চাই। কিন্তু পারি না।

এই ব্যর্থতার কারণ কী? আমার ইমান কি কম? আমার ইচ্ছাশক্তি কি দুর্বল?

নাকি আমি যে পরিবেশে আছি, সেটাই এমন যে পাপ করতে বাধ্য?

আল্লাহর কাছে দোয়া করি, “হে আল্লাহ, আমাকে শক্তি দিন। আমাকে পথ দেখান। আমি এই চক্র থেকে বেরোতে চাই।”

কিন্তু মনে হয় আমার দোয়ায় আন্তরিকতা নেই। কারণ আমি জানি কাল আবার একই কাজ করতে পারি।

এই জানা থাকার পরেও দোয়া করি। এটা কি ভণ্ডামি?

মাঝে মাঝে ভাবি, আমি তওবা করা বন্ধ করে দিই। যেহেতু রাখতে পারি না, তওবাই বা করি কেন?

কিন্তু তারপর মনে হয়, তওবা না করলে তো আরো খারাপ হয়ে যাব।

এই দ্বিধায় পড়ে থাকি।

ইমাম সাহেবের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করার ইচ্ছা হয়। কিন্তু লজ্জা লাগে। তিনি কী ভাববেন?

আমি কি একমাত্র এমন মানুষ যে এই সমস্যায় ভুগি? নাকি সবার সাথেই হয়?

যদি সবার সাথে হয়, তাহলে আল্লাহ কেন এমন কঠিন পরীক্ষা দেন?

হয়তো এটাই জীবনের বাস্তবতা। মানুষ ভুল করবে। তওবা করবে। আবার ভুল করবে। আবার তওবা করবে।

গুরুত্বপূর্ণ হলো হাল ছেড়ে না দেওয়া।

আজ আবার তওবা করব। জানি কাল আবার ভাঙতে পারি। কিন্তু তবুও করব।

কারণ আমি বুঝেছি, তওবা একটা চেষ্টা। পারফেকশন নয়।

আল্লাহ হয়তো আমার চেষ্টাটাই দেখেন।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

ব্লগ

অর্থ

নভেম্বর ২০২৫ · 9 মিনিটে পড়া

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *