জামিউলের ফোন।
“হায়দার, আগামীকাল রাতে আমার বাসায় পার্টি। তুমি আসবে তো?”
আমার বুক ধড়ফড় করে।
পার্টি মানে উপহার কিনতে হবে। নতুন শার্ট পরতে হবে। খাওয়া-দাওয়ার খরচ।
কমপক্ষে দুই হাজার টাকা লাগবে।
আমার কাছে নেই।
“আসলে কাল আমার একটা জরুরি কাজ আছে।”
“কী কাজ?”
আমি মাথা খারাপ করে বলি, “আরাশকে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যেতে হবে।”
“অসুস্থ নাকি?”
“একটু জ্বর।”
“ঠিক আছে। পরে আসিস।”
ফোন কেটে দিই।
আমি মিথ্যা বলেছি। আরাশ সুস্থ আছে।
কিন্তু আমি কী বলতাম? যে আমার টাকা নেই?
এই মিথ্যা আমাকে অপরাধী করে তোলে।
আমার বন্ধুরা জানে না আমার অর্থনৈতিক অবস্থা।
তারা ভাবে আমি ভালো আছি।
গত মাসে সাইফুলের জন্মদিন ছিল। যাইনি।
এর আগের মাসে মৃদুলের বিয়ের বার্ষিকী। যাইনি।
আস্তে আস্তে আমি সব অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলি।
বন্ধুরা এখন আমাকে নিমন্ত্রণ করাও কমিয়ে দিয়েছে।
তারা হয়তো বুঝে গেছে আমি আসি না।
আমি ভাবি, দারিদ্র্য শুধু টাকার সমস্যা নয়।
দারিদ্র্য মানে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা।
আমি আস্তে আস্তে সবার থেকে দূরে চলে যাচ্ছি।
একটু ভাবনা রেখে যান