ব্লগ

ফোনে করে ফোন খোঁজা

নভেম্বর ২০২৫ · 4 মিনিটে পড়া
শেয়ার

“আমার মোবাইলটা কোথায়?” এই কথাটা বলার পর হঠাত টের পাই যে আমি মোবাইল দিয়েই কথা বলছি। হ্যাপির সাথে ফোনে কথা বলতে বলতেই খুঁজছি আমার মোবাইল। এই অবস্থায় পড়লে মনে হয় আমার মস্তিষ্কে কোথাও কোনো তার খসে গেছে।

এমন কতবার হয়েছে গুণে শেষ করতে পারব না। ফোনে কথা বলতে বলতে ফোন খোঁজা। এটা শুধু আমার সাথেই হয় নাকি সবার সাথে হয়? আমি কি এতটাই বিক্ষিপ্ত মনের মানুষ?

সবচেয়ে হাস্যকর ঘটনা হয়েছিল অফিসে। জামিউরের সাথে ফোনে কথা বলছি। হঠাত বলে ফেললাম, “তোর মোবাইল নাম্বারটা দে। আমার ফোনে কল দে। খুঁজে পাচ্ছি না।” জামিউর অন্য প্রান্ত থেকে হেসে বলল, “পাগল, তুই তো আমার সাথে ফোনেই কথা বলছিস।”

সেই মুহূর্তে এমন লজ্জা পেয়েছিলাম যে মনে হয়েছিল মাটিতে গর্ত করে ঢুকে পড়ি। কিন্তু জামিউর হাসতে হাসতে বলল, “এটা আমার সাথেও হয়েছে। চশমা মাথায় রেখে চশমা খুঁজেছি।”

এই ঘটনার পর থেকে বুঝেছি যে আমি একা নই যে এমন বোকামি করি। আমাদের মস্তিষ্ক কখনো কখনো অটোপাইলট মোডে চলে যায়। একটা কাজ করতে করতে অন্য কাজের কথা ভাবি।

আরাশ একদিন দেখল আমি ফোনে কথা বলতে বলতে ফোন খুঁজছি। সে হাসতে হাসতে বলল, “আব্বু, আপনার ফোন তো আপনার কানেই আছে।” তার এই কথায় বুঝলাম যে আমার এই অভ্যাসটা পরিবারের সবাই জানে।

হ্যাপি বলে, “তুমি একসাথে অনেক কিছু নিয়ে ভাব। তাই এমন হয়।” সত্যি তো। অফিসের কাজ, বাড়ির চিন্তা, আরাশের পড়ালেখা – এত কিছু নিয়ে চিন্তা থাকে যে মনোযোগ ভাগ হয়ে যায়।

কিন্তু এই ঘটনাগুলো আমাকে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শিখিয়েছে। আমরা কত অসচেতনভাবে অনেক কাজ করি। হাতে ফোন রেখে ফোন খুঁজি। চশমা মাথায় রেখে চশমা খুঁজি। চাবি হাতে রেখে চাবি খুঁজি।

মনোবিজ্ঞানীরা এটাকে বলেন “ইনঅ্যাটেনশনাল ব্লাইন্ডনেস”। আমরা এত মনোযোগ দিয়ে একটা কাজ করি যে অন্য কাজে কোনো খেয়াল থাকে না। ফোনে কথা বলায় এতটাই মগ্ন থাকি যে মনেই থাকে না ফোন হাতে আছে।

এই অভ্যাসের কারণে আমার আত্মবিশ্বাস কমে যায়। মনে হয় আমি খুব বিস্মৃতিপ্রবণ। আমার স্মৃতিশক্তি খারাপ। কিন্তু আসলে সমস্যা স্মৃতিশক্তির নয়, মনোযোগের।

আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন আমি আরো সচেতন হতে পারি। যেন একসাথে অনেক কাজ করতে গিয়ে কোনো কাজে পূর্ণ মনোযোগ দিতে ভুলে না যাই।

এখন যখনই ফোনে কথা বলি, মনে করিয়ে দিই নিজেকে যে ফোন আমার হাতেই আছে। কিন্তু তবুও মাঝে মাঝে ভুল হয়ে যায়। অভ্যাস তো একদিনে পাল্টায় না।

একদিন আরাশকে বলেছিলাম, “তুই যখন বড় হবি, তখনো এমন বোকামি করবি।” সে বলেছিল, “আমি করব না।” হাসি পেয়েছিল। যৌবনে সবাই মনে করে তারা আলাদা। কিন্তু বয়স হলে সবাই একই ধরনের ভুল করে।

অবশ্য এই ভুলগুলো খারাপ কিছু নয়। এগুলো আমাদের মানবিকতার প্রমাণ। আমরা যন্ত্র নই। আমাদের মস্তিষ্ক পারফেক্ট নয়। এই ছোট ছোট ভুলই আমাদের মানুষ করে তোলে।

আজকাল আরো সচেতন হওয়ার চেষ্টা করি। ফোনে কথা বলার সময় মনে রাখার চেষ্টা করি যে ফোন আমার হাতে আছে। কিন্তু যদি আবার ভুল হয়ে যায়, তাহলে নিজেকে খুব দোষ দিই না। এটাই জীবন।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

ব্লগ

আওয়াজ

নভেম্বর ২০২৫ · 12 মিনিটে পড়া

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *