গতকাল হজ্জ এজেন্সির অফিসে গিয়েছিলাম। দেয়ালে মক্কা-মদিনার ছবি। সবুজ গম্বুজের ছবিতে নিচে লেখা “প্যাকেজ শুরু ৮ লাখ টাকা থেকে।”
আমি চোখ কপালে তুললাম। ৮ লাখ? এজেন্ট সাহেব হেসে বললেন, “স্যার, এটা তো সাধারণ প্যাকেজ। ভিআইপি প্যাকেজ ১৫ লাখ।”
“পার্থক্যটা কী?” জিজ্ঞেস করলাম।
“ভিআইপিতে কাবার কাছে হোটেল। পাঁচ তারকা। রুম সার্ভিস। হারামে এসি চেয়ার।”
মনটা খারাপ হয়ে গেল। আল্লাহর ঘরে কাছে যাওয়ার জন্য টাকার দরকার? যার বেশি টাকা, সে বেশি কাছে যাবে?
বাসায় ফিরে হ্যাপিকে বললাম। হ্যাপি বলল, “আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের জন্য হজ্জ এখন স্বপ্ন।”
রাতে ইন্টারনেটে দেখি মক্কার হোটেলের ছবি। ৫০ তলা বিল্ডিং। কাবার উপর ছায়া পড়েছে। নিচে লেখা “লাক্সারি হজ্জ এক্সপেরিয়েন্স।”
আরাশ জিজ্ঞেস করল, “আব্বু, রসুল (সা) এর সময়ও কি এমন হোটেল ছিল?” আমি বলতে পারলাম না যে, তখন মানুষ মাটিতে শুয়ে ইবাদত করতেন।
একটা ভিডিওতে দেখলাম সৌদি প্রিন্স বলছেন, “আমরা হজ্জ ইন্ডাস্ট্রিকে মডার্ন করেছি।” ইন্ডাস্ট্রি? হজ্জ কি ইন্ডাস্ট্রি?
আরেকটা ভিডিওতে দেখলাম একজন বাংলাদেশি বলছেন, “২০ বছর টাকা জমিয়ে হজ্জ করতে এসেছি। কিন্তু এখানে সব টাকার খেলা।”
মনে পড়ল বাবার কথা। উনি বলতেন, “হজ্জ হলো সবার সমান। রাজা-প্রজা একই কাপড় পরে।” আজ দেখি রাজারা এসি রুমে, প্রজারা গরমে।
বারান্দায় দাঁড়িয়ে ভাবি। আল্লাহ কি চান যে তার ঘরে শুধু ধনীরাই আরামে আসবে? নাকি সবাই সমান ত্যাগ স্বীকার করে আসবে?
জমজমের পানিও এখন বোতলে বিক্রি হয়। ৫০০ টাকা প্রতি বোতল। মক্কার মাটিও বিক্রি হয়। “পবিত্র উপহার” বলে।
আমি অবাক। যা আল্লাহ সবার জন্য করেছিলেন, তা কিভাবে কিছু মানুষের ব্যবসা হলো?
রাতে দোয়া করার সময় ভাবি – হে আল্লাহ, তোমার ঘরে যাওয়ার জন্য এত টাকা লাগবে কেন? তুমি কি গরিবদের চাও না?
আমার হজ্জ কি কোনোদিন হবে? নাকি পবিত্রতাও এখন ধনীদের একচেটিয়া?
একটু ভাবনা রেখে যান