রাত ১১টায় বিছানায় শুয়ে হঠাত মনে পড়ে – কাল কী পরব? এই চিন্তাটা মাথায় আসতেই ঘুম উড়ে যায়। শুধু একটা সহজ সিদ্ধান্ত – কোন শার্ট, কোন প্যান্ট। কিন্তু মস্তিষ্কের কাছে এটা একটা জটিল সমীকরণ।
কাল অফিসে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং আছে। নীল শার্ট পরব নাকি সাদা? নীল পরলে কোন প্যান্ট? ধূসর নাকি কালো? সাদা পরলে আবার কী? এই সব হিসেব নিকেশ।
উঠে আলমারিতে গিয়ে দেখি। নীল শার্টটা এখনো ধোয়া হয়নি। সাদাটা আছে কিন্তু একটু পুরনো। হালকা হলুদ একটা আছে, কিন্তু সেটা মিটিংয়ের জন্য উপযুক্ত কিনা সন্দেহ।
হ্যাপি জিজ্ঞেস করে, “কী করছ?” আমি বলি, “কাল কী পরব ভাবছি।” সে বলে, “এখন? এত রাতে?” আমার কাছে মনে হয় এটাই সঠিক সময়।
বিছানায় ফিরে গিয়েও ভাবনা চলতে থাকে। যদি বৃষ্টি হয় তাহলে? যদি রোদ বেশি হয়? যদি এসি ঠান্ডা থাকে? সব পরিস্থিতির জন্য আলাদা পোশাকের দরকার।
সকালে তাড়াহুড়োর মধ্যে পোশাক বাছাই করলে ভুল হয়। তাই রাতেই ঠিক করে রাখা ভালো। কিন্তু এই ঠিক করার প্রক্রিয়া এত জটিল কেন?
কখনো কখনো শুধু পোশাক নয়, জুতো নিয়েও চিন্তা। কোন জুতো কোন প্যান্টের সাথে যায়? কালো প্যান্টের সাথে বাদামি বেল্ট দিব নাকি কালো?
আল্লাহর কাছে প্রশ্ন করি, “কেন আমি এত সাধারণ একটা বিষয় নিয়ে এত ভাবি?” মনে হয় উত্তর আসছে – “তুমি নিখুঁত হতে চাও।”
আরাশ কখনো এসব নিয়ে ভাবে না। যেটা প্রথমে হাতে আসে সেটাই পরে নেয়। কিন্তু আমি? আমি একটা পোশাকের জন্য আধঘণ্টা ভাবি।
অনেক সময় সিদ্ধান্ত নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। কিন্তু সকালে দেখি মন পরিবর্তন হয়েছে। রাতে যেটা ভালো লেগেছিল, সকালে সেটা আর ভালো লাগে না।
হয়তো এটা আমার নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা। জীবনের অনেক কিছুই আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। কিন্তু পোশাক আছে। এটা আমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।
কিন্তু এই নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা আমার ঘুম কেড়ে নেয়। একটা সহজ সিদ্ধান্তকে জটিল করে তোলে। হয়তো জীবন এভাবেই – সহজ কিছু নেই।
একটু ভাবনা রেখে যান