আগামীকাল বড় একটা প্রেজেন্টেশন। ক্লায়েন্টদের সামনে। বিগ বসও থাকবেন। আজ রাতে খাওয়ার পর হঠাত মনে এল – কাল কী পরব? এই সাধারণ প্রশ্নটা মাথায় আসতেই যেন একটা জটিল গবেষণার বিষয় হয়ে গেল।
আলমারির সামনে দাঁড়িয়ে আছি। নীল শার্ট? নাকি সাদা? নীল শার্ট পরলে টাই কোন রঙের? কালো নাকি নীল? সাদা শার্ট পরলে আবার মনে হবে খুব সাধারণ। হালকা হলুদ শার্টটা কেমন হবে? কিন্তু সেটা তো একটু ক্যাজুয়াল।
হ্যাপি দেখছে আমার এই অবস্থা। বলল, “এত ভাবছ কেন? যেকোনো একটা পর।” কিন্তু সে বুঝে না এটা শুধু পোশাকের ব্যাপার নয়। এটা আত্মবিশ্বাসের ব্যাপার।
প্রেজেন্টেশনে কী বলব, সেটা তৈরি। স্লাইড রেডি। কিন্তু কী পরব, সেটা নিয়ে এত টেনশন কেন? হয়তো কারণ পোশাক হল প্রথম ইমপ্রেশন। মানুষ প্রথমে আপনার কথা শোনার আগে আপনার চেহারা দেখে।
আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, “কাল যেন সব ঠিক হয়।” কিন্তু এই প্রার্থনার মধ্যে পোশাকের চিন্তাও আছে।
বিগ বস কী পরেন সাধারণত? নেভি ব্লু স্যুট। সাদা শার্ট। রেড টাই। আমার তো স্যুট নেই। শুধু শার্ট-প্যান্ট। তাহলে কি আমাকে আন্ডারড্রেসড লাগবে?
ক্লায়েন্টরা কেমন পোশাক পরে আসে? গত বার দেখেছিলাম তারা বেশ ফর্মাল ছিল। তাহলে আমারও একটু ফর্মাল হওয়া দরকার।
নীল শার্টটা হাতে নিয়ে আয়নার সামনে ধরি। ঠিক আছে মনে হয়। কিন্তু এই শার্টের সাথে কোন প্যান্ট? ধূসর নাকি কালো? ধূসর প্যান্ট বেশি প্রফেশনাল লাগে। কিন্তু কালো প্যান্টের সাথে বেল্ট ম্যাচ করে।
জুতো নিয়েও চিন্তা। কালো জুতো নাকি ব্রাউন? কালো জুতো সেফ চয়েস। কিন্তু ব্রাউন জুতো একটু স্টাইলিশ লাগে।
আরাশ এসে বলল, “আব্বু, আপনি কেন এত সময় নিচ্ছেন?” আমি বললাম, “কাল একটা গুরুত্বপূর্ণ মিটিং।” সে বলল, “তো যেটা ভালো লাগে সেটা পরুন।”
বাচ্চার কথায় সহজ সমাধান। কিন্তু “যেটা ভালো লাগে” – এটা কি? আমার কাছে ভালো লাগে যেটা, সেটা অন্যদের কাছে কেমন লাগবে?
রাতে বিছানায় শুয়েও ভাবি। নীল শার্ট + ধূসর প্যান্ট + কালো বেল্ট + কালো জুতো = কেমন দেখাবে? মনে মনে কল্পনা করি। ঠিক আছে মনে হয়।
কিন্তু ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখি প্রেজেন্টেশনে গিয়েছি ভুল পোশাক পরে। সবাই আমার দিকে অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে আছে। ঘুম ভেঙে যায়।
সকালে উঠে আবার সেই দ্বিধা। নীল শার্ট নাকি সাদা? অবশেষে নীল শার্ট পরি। আয়নায় দেখে মনে হয় ঠিক আছে। কিন্তু অফিসে গিয়ে দেখি জামিউরও নীল শার্ট পরেছে। মনে হয় আমি কপি করেছি।
প্রেজেন্টেশনের ঘণ্টাখানেক আগে বাথরুমে গিয়ে আবার চেক করি। শার্ট ঠিক আছে তো? টাই সোজা আছে তো? চুল ঠিক আছে তো?
প্রেজেন্টেশন শেষে বস বললেন, “Good job।” কিন্তু পোশাক নিয়ে কিছু বললেন না। মানে ঠিক ছিল। বা হয়তো তিনি খেয়াল করেনওনি।
বাড়িতে এসে হ্যাপিকে বললাম, “প্রেজেন্টেশন ভালো হয়েছে।” সে বলল, “দেখেছিস? এত টেনশন নেওয়ার দরকার ছিল না।”
কিন্তু আমি জানি পরের বার আবার একই টেনশন হবে। কারণ পোশাক শুধু কাপড় নয়। এটা আমাদের আত্মবিশ্বাসের একটা অংশ।
একটু ভাবনা রেখে যান