আমার কাছে এখন তিনজন ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন আছে।
হার্ট স্পেশালিস্ট—পাঁচটা ওষুধ। ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ—চারটা ওষুধ। জেনারেল ফিজিশিয়ান—তিনটা ওষুধ।
মোট বারোটা ওষুধ প্রতিদিন।
আমি একটা চার্ট বানিয়েছি। কোন ওষুধ কখন খেতে হবে।
সকাল সাতটা—তিনটা। দুপুর একটা—দুটা। বিকাল পাঁচটা—দুটা। রাত নয়টা—পাঁচটা।
আমার জীবন এই বারোটা ওষুধের চারপাশে ঘুরে।
আমি কোথাও যেতে পারি না এই ওষুধ ছাড়া।
আমি কিছু খেতে পারি না এই ওষুধের কথা না ভেবে।
“এই ওষুধ খাওয়ার পর খাব নাকি আগে?”
প্রতিটা ওষুধের আলাদা নিয়ম। কোনটা খালি পেটে, কোনটা খাওয়ার পর, কোনটা রাতে।
আমি মাঝে মাঝে ভুলে যাই। তখন প্যানিক হয়ে যাই।
“সকালের ওষুধ খেয়েছি কি?”
হ্যাপি আমার জন্য একটা পিল বক্স কিনেছে। সাতদিনের জন্য আলাদা আলাদা ঘর।
আমি রবিবার সন্ধ্যায় পুরো সপ্তাহের ওষুধ ভাগ করে রাখি।
এটা আমার সাপ্তাহিক রুটিনের অংশ হয়ে গেছে।
আমার ব্যাগে সবসময় একটা জরুরি ওষুধের প্যাকেট থাকে।
আমি ভ্রমণে গেলে অতিরিক্ত ওষুধ নিয়ে যাই। যদি দেরি হয়।
আমি গভীর রাতে ঘুম থেকে উঠে ভাবি, “রাতের ওষুধ খেয়েছি তো?”
এই ওষুধগুলো ছাড়া আমি বাঁচব না।
কিন্তু এই ওষুধের উপর নির্ভরতা আমাকে পঙ্গু করে দিয়েছে।
আমি একটা স্বাধীন মানুষ থেকে ওষুধের দাস হয়ে গেছি।
আর এই দাসত্ব সারাজীবনের জন্য।
একটু ভাবনা রেখে যান