ব্লগ

প্রেশারের মাপে জীবনের হিসাব

নভেম্বর ২০২৫ · 2 মিনিটে পড়া
শেয়ার

ডাক্তার প্রেশার মাপছেন। মেশিনে দেখাচ্ছে ১৪০/৯০।

“একটু বেশি। হাই প্রেশার।”

আমি ভাবি, আমার রক্তও এখন স্বাভাবিক নয়।

“এর মানে কী?”

“লাইফস্টাইল চেঞ্জ করতে হবে। লবণ কম খেতে হবে। টেনশন কম নিতে হবে।”

টেনশন কম নিতে হবে। কিন্তু টেনশন তো আমার জীবনের অংশ। আরাশের ভবিষ্যৎ নিয়ে টেনশন। পারিবারিক খরচ নিয়ে টেনশন। চাকরি নিয়ে টেনশন।

এই টেনশন ছাড়া আমি বাঁচব কীভাবে?

“ডাক্তার সাহেব, আমার জীবনে টেনশন না থাকলে তো চলবে না।”

“তাহলে ওষুধ খেতে হবে। সারাজীবন।”

সারাজীবন। আরেকটা সারাজীবনের বন্ধন।

বাড়িতে ফিরে হ্যাপিকে বলি, “আমার হাই প্রেশার।”

“কী করতে হবে?”

“লবণ কম খেতে হবে। মানসিক চাপ কম নিতে হবে।”

হ্যাপি হাসে। “তুমি আর মানসিক চাপ কম নেবে কীভাবে? সারাদিন চিন্তায় থাক।”

সে ঠিক বলেছে। আমি চিন্তার যন্ত্র। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাজারো ভাবনা।

আমি ভাবি, আমার বাবারও কি হাই প্রেশার ছিল? তিনি কি এই একই উপদেশ পেয়েছিলেন?

আমি জানি আমি আমার জীবনযাত্রা বদলাতে পারব না। আমার সংসার, আমার দায়িত্ব, আমার চিন্তা—সব আগের মতোই থাকবে।

শুধু এখন আমার রক্ত অস্বাভাবিক হারে চাপ দেবে আমার হৃদয়ে।

আমি প্রেশারের ওষুধ কিনি। প্রতিদিন খেতে হবে।

আরেকটা নিয়মিত ওষুধ আমার জীবনে।

আমি ভাবি, কয়টা ওষুধ খেলে মানুষ বুঝে যায় সে বুড়ো হয়ে গেছে?

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *