মাগরিবের আজান। এক সেকেন্ড। দুই সেকেন্ড। তিন সেকেন্ড।
গলাটা কেমন রুক্ষ। জিভটা আটকে আছে তালুর সাথে। মুখের ভিতর একটা তিতকুটে স্বাদ – সারাদিনের উপোসের স্বাদ।
হাতে গ্লাসটা। ভিতরে স্বচ্ছ পানি। এক ঘন্টা আগেও এই পানি ছিল হারাম। এখন হয়ে গেছে হালাল। একটা আজানের ব্যবধানে।
লেবু-পানিতে একটা চুমুক দিলাম। প্রথম ঢোকটা গলা দিয়ে নামতেই…
পুরো শরীরে একটা কম্পন। যেন বিদ্যুৎ খেলে গেল। গলার ভিতর দিয়ে যেতে যেতে পানিটা কেমন শীতল লাগল। পেটে পৌঁছতেই মনে হলো – আহ, বেঁচে গেলাম।
কিন্তু এটা শুধু পানি নয়। এটা একটা অনুভূতি। সারাদিন যে তৃষ্ণায় ছিলাম, সেটা শুধু পানির তৃষ্ণা ছিল না। ছিল আরো কিছুর তৃষ্ণা। আর এই প্রথম চুমুকে সেই তৃষ্ণাও মিটে গেল।
দ্বিতীয় ঢোক নিলাম। এবার আর সেই অনুভূতি নেই। এবার এটা শুধুই পানি। কিন্তু প্রথম ঢোকটা… সেটা ছিল অন্য কিছু।
মনে হলো – এই তো আল্লাহর রহমতের স্বাদ। সারাদিন নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রেখে, নিজেকে বঞ্চিত করে, তারপর যখন সেই বঞ্চনা শেষ হয় – তখন যে আনন্দ, সেটাই বুঝি রহমত।
খেজুরটা মুখে দিলাম। মিষ্টি স্বাদ। কিন্তু শুধু মিষ্টি নয় – এর সাথে আছে একটা পবিত্রতার অনুভূতি। রাসূল (সা.) যেভাবে রোজা ভাঙতেন, আমিও সেভাবে ভাঙছি।
পেটে খাবার যেতেই শরীরে শক্তি ফিরে এলো। কিন্তু মনে আরো বেশি শান্তি এলো। একটা পরীক্ষা পাস করার মতো অনুভূতি।
রোজা রাখার সময় যত কষ্ট হোক না কেন, ইফতারের এই মুহূর্তে সব কষ্ট মাফ হয়ে যায়। বরং মনে হয় – আগামীকালও রোজা রাখব।
কারণ এই স্বাদ, এই অনুভূতি – এটা কিনে পাওয়া যায় না। এটা পেতে হলে আগে বঞ্চিত হতে হয়।
আর বঞ্চনার পর যে তৃপ্তি, সেটাই বুঝি জান্নাতের স্বাদ।
একটু ভাবনা রেখে যান