ব্লগ

যখন খেলায়ও আমি পুরনো

নভেম্বর ২০২৫ · 3 মিনিটে পড়া
শেয়ার

“বাবা, চল আমার সাথে ভিডিও গেম খেল।”

আমি আরাশের সাথে বসি। সে তার আইপ্যাডে একটা গেম চালু করে।

আমি কন্ট্রোলার হাতে নিয়ে বুঝতেই পারি না কোন বোতাম কীসের জন্য।

আরাশ বলে, “বাবা, এইভাবে জাম্প করতে হয়। এইটা দিয়ে দৌড়াতে হয়।”

আমি চেষ্টা করি। কিন্তু আমার চরিত্রটা পড়েই যায়। আরাশের চরিত্র উড়ে উড়ে এগিয়ে যায়।

“বাবা, তুমি এত ধীরে ধীরে কেন?”

আমি হাসার চেষ্টা করি। কিন্তু ভিতরে একটা অস্বস্তি।

আমি যখন আরাশের বয়সী ছিলাম, আমরা ক্রিকেট খেলতাম, ফুটবল খেলতাম। এইসব ভার্চুয়াল গেম ছিল না।

“আরাশ, চল আমরা বাইরে ক্রিকেট খেলি।”

“ক্রিকেট? সেটা তো বুড়োদের খেলা।”

বুড়োদের খেলা? আমি যা ভালোবাসি, সেটা বুড়োদের খেলা?

“বাবা, তুমি জানো না এখন কি ট্রেন্ড?”

আমি জানি না। আমি জানি না কোন গান এখন চালু। কোন মুভি হিট। কোন গেম জনপ্রিয়।

আরাশের দুনিয়া আর আমার দুনিয়া আলাদা।

“বাবা, তুমি ফেসবুক ব্যবহার কর?”

“না।”

“ইনস্টাগ্রাম?”

“না।”

“ইউটিউব?”

“খুব কম।”

আরাশ আমার দিকে তাকায় যেন আমি কোনো প্রাগৈতিহাসিক প্রাণী।

“বাবা, তুমি কীসের সাথে আপডেট থাক?”

আমি উত্তর দিতে পারি না।

আমি বই পড়ি। কবিতা লিখি। পত্রিকা পড়ি। কিন্তু এগুলো কি আরাশের কাছে ‘আপডেট’ থাকা?

আমি বুঝতে পারি, আমি আর আরাশের মধ্যে একটা বিশাল ফাঁক তৈরি হয়েছে।

প্রযুক্তির ফাঁক। সংস্কৃতির ফাঁক। চিন্তাধারার ফাঁক।

আমার বাবার সাথে আমার যে দূরত্ব ছিল, আরাশের সাথে আমার সেই একই দূরত্ব তৈরি হচ্ছে।

কিন্তু আমার বাবার সাথে আমার দূরত্ব ছিল মতামতের। আরাশের সাথে আমার দূরত্ব হচ্ছে যুগের।

“আরাশ, আমি তোর সাথে মানিয়ে নিতে চাই। আমাকে শেখা।”

আরাশ খুশি হয়। সে আমাকে তার গেম শেখাতে শুরু করে।

কিন্তু আমি বুঝতে পারি, এই শেখাটা একতরফা। আরাশ আমার দুনিয়ায় আসতে আগ্রহী নয়।

সে আমার বই পড়তে চায় না। আমার প্রিয় গান শুনতে চায় না। আমার শৈশবের খেলা খেলতে চায় না।

তাহলে কি আমাকেই পুরোপুরি তার দুনিয়ায় চলে যেতে হবে?

নাকি এভাবেই দূরত্ব বাড়তে থাকবে?

আল্লাহ, আমি কীভাবে আমার ছেলের সাথে সেতু তৈরি করব?

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *