ব্লগ

পুরুষত্বের শেষ যুদ্ধ

নভেম্বর ২০২৫ · 2 মিনিটে পড়া
শেয়ার

আমি ওষুধের দোকানে দাঁড়িয়ে আছি। হাতে একটা প্রেসক্রিপশন।

“ভায়াগ্রা আছে?”

দোকানদার আমার দিকে তাকায়। আমি লজ্জায় মাথা নিচু করি।

“হ্যাঁ আছে। কয়টা লাগবে?”

“চারটা।”

আমি টাকা দিয়ে তাড়াতাড়ি ওষুধ নিয়ে চলে আসি।

বাড়িতে ফিরে আয়নার সামনে দাঁড়াই। আমার ঊনপঞ্চাশ বছরের শরীর।

আমি আর আগের মতো নই।

গত কয়েক মাসে হ্যাপির সাথে আমার শারীরিক সম্পর্ক প্রায় নেই। যখন চেষ্টা করি, ব্যর্থ হই।

হ্যাপি কিছু বলে না। কিন্তু আমি জানি সে বোঝে।

আমি ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম। তিনি বলেছিলেন, “এটা বয়সের সমস্যা। স্ট্রেস, ডায়াবেটিস—এসবের কারণে হয়।”

তিনি ওষুধ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটা নিতে আমার লজ্জা লাগে।

আমি একজন পুরুষ। আমার এই সমস্যা থাকা উচিত নয়।

কিন্তু আছে।

আমি ইন্টারনেটে পড়েছি, পঞ্চাশের পর অনেক পুরুষেরই এই সমস্যা হয়। কিন্তু কেউ বলে না। সবাই লুকিয়ে রাখে।

আমিও লুকিয়ে রাখি।

আমার বন্ধুদের সাথে এই বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারি না। তারা কী ভাববে?

আমি রাতে শুয়ে ভাবি, আমার পুরুষত্ব কি শেষ হয়ে গেল?

আমি কি আর একজন পূর্ণাঙ্গ পুরুষ নই?

হ্যাপি আমাকে বলেছিল, “এইসব নিয়ে এত চিন্তা কোরো না। তুমি শুধু আমার স্বামী নও, আমার বন্ধুও।”

কিন্তু আমি জানি, শারীরিক সম্পর্ক দাম্পত্য জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আমি সেই অংশে ব্যর্থ।

আমি ওষুধটা হাতে নিয়ে ভাবি, এটা খেলে কি আমি আবার আগের মতো হব?

নাকি এটাও কৃত্রিম সমাধান? ঘুমের বড়ির মতো?

আমি জানি না।

কিন্তু চেষ্টা করতে হবে।

কারণ আমি আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছি।

শুধু শারীরিক ক্ষেত্রে নয়, সব ক্ষেত্রে।

আমি নিজেকে একজন অক্ষম পুরুষ মনে করি।

এই অনুভূতি আমাকে ভিতর থেকে ভেঙে দিচ্ছে।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *