হ্যাপি শাড়ির দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে একটা লাল শাড়ি দেখছে।
“কেমন লাগছে?” সে আমাকে জিজ্ঞেস করে।
আমি দেখি। সুন্দর শাড়ি। হ্যাপিকে ভালো লাগবে।
“কত দাম?” দোকানদারকে জিজ্ঞেস করি।
“দুই হাজার।”
আমার পেটে মোচড় দেয়।
দুই হাজার টাকা। আমার পকেটে আছে পাঁচশ।
আমি হেসে বলি, “আরো কিছু দেখান।”
দোকানদার আরেকটা শাড়ি দেখায়।
“এইটা?”
“বারোশ টাকা।”
এটাও আমার সাধ্যের বাইরে।
হ্যাপি বুঝে যায়। সে আর কিছু দেখতে চায় না।
“চল, অন্য দোকানে দেখি।” সে বলে।
আমরা তিনটা দোকানে গেলাম। সব জায়গায় একই অবস্থা।
হ্যাপি একটাও শাড়ি পছন্দ করল না। আসলে আমি একটাও কিনতে পারলাম না।
বাড়ি ফেরার পথে হ্যাপি চুপ।
আমিও চুপ।
আমি জানি সে কী ভাবছে। তার স্বামী তার জন্য একটা শাড়িও কিনতে পারে না।
আমি একজন পুরুষ। আমার উচিত আমার স্ত্রীর সাজসজ্জার ব্যবস্থা করা।
কিন্তু আমি পারছি না।
আমার বন্ধুদের স্ত্রীরা দামি শাড়ি পরে। আমার স্ত্রী পুরনো শাড়ি পরে।
এই ব্যর্থতা আমার পুরুষত্বে আঘাত করে।
“হ্যাপি, আগামী মাসে তোর জন্য সুন্দর একটা শাড়ি কিনে দেব।”
হ্যাপি হাসে। “দরকার নেই। আমার অনেক শাড়ি আছে।”
কিন্তু আমি দেখেছি তার চোখে সেই লাল শাড়ির জন্য আকুতি।
সে আমাকে কষ্ট দিতে চায় না। তাই ইচ্ছা চেপে রাখে।
এটা আমাকে আরো অপরাধী করে তোলে।
রাতে শুয়ে ভাবি, একজন স্বামীর সবচেয়ে বড় লজ্জা কী?
নিজের স্ত্রীকে সাজতে না দিতে পারা।
আমি সেই লজ্জার মধ্যে বাস করি।
একটু ভাবনা রেখে যান