স্বপ্নে দেখলাম বাবা এসেছেন। হাসছেন। বললেন, “খোকা, চিন্তা করিস না। সব ঠিক হবে।” জেগে উঠে অনুভব করলাম—এই কথোপকথন দিনের যেকোনো কথার চেয়ে বেশি সত্য।
বাস্তবে তো বাবা নেই। কিন্তু স্বপ্নে তার উপস্থিতি এত প্রাণবন্ত যে জাগ্রত জীবনের অনেক মুহূর্ত মনে হয় অবাস্তব।
স্বপ্নে আমি উড়তে পারি। দৌড়াতে পারি মেঘের উপর দিয়ে। কথা বলতে পারি পশুপাখির সাথে। সেই মুহূর্তে এগুলো পুরোপুরি স্বাভাবিক লাগে।
কিন্তু অফিসে বসে এক্সেল শিট ভরানো কি আরও অবাস্তব নয়?
স্বপ্নে আমি সাহসী। যে কথা জাগ্রত অবস্থায় বলতে পারি না, স্বপ্নে বলি। বসের সামনে দাঁড়িয়ে বলি, “আপনার সিদ্ধান্ত ভুল।” সেই স্বপ্নের আমি কি আসল আমি নয়?
স্বপ্নে ভয় নেই। সীমাবদ্ধতা নেই। সামাজিক বিধিনিষেধ নেই। আমি যা চাই, তাই হই।
গতকাল স্বপ্নে দেখলাম নিজেকে একটা পাহাড়ের চূড়ায়। একা। নীরব। কিন্তু অপার শান্তি। জেগে উঠে বুঝলাম—এই শান্তি আমার জাগ্রত জীবনে কোথায়?
স্বপ্নে আমি যে মানুষ, সেই মানুষ হতে পারলে আমার জীবন কেমন হত?
মাঝে মাঝে মনে হয় স্বপ্নই আসল জীবন। আর এই জাগ্রত অবস্থা একটা দীর্ঘ, ক্লান্তিকর স্বপ্ন।
স্বপ্নে মৃত মানুষেরা বেঁচে থাকে। হারিয়ে যাওয়া প্রেম ফিরে আসে। ভাঙা স্বপ্ন পূর্ণ হয়। সেই জগৎ কি মিথ্যা? নাকি বাস্তবতার আরেক স্তর?
স্বপ্নে আমার কোনো অর্থের চিন্তা নেই। চাকরির চাপ নেই। সামাজিক দায়বদ্ধতা নেই। আমি শুধু আমি। খাঁটি আমি।
যেদিন খারাপ স্বপ্ন দেখি, সারাদিন মন খারাপ থাকে। যেদিন ভালো স্বপ্ন, দিনটা ভালো যায়। তাহলে স্বপ্ন কি দিনের চেয়ে বেশি প্রভাবশালী?
আমার স্বপ্নের চরিত্ররা আমার জাগ্রত চিন্তার প্রকাশ। কিন্তু তারা এমন সব কাজ করে যা আমি কখনো ভাবিনি।
স্বপ্ন কি আমার গোপন ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ? নাকি আমার অজানা ক্ষমতার ইশারা?
রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় মনে হয় আরেকটা জীবনে প্রবেশ করছি। যেখানে আমি সীমাহীন। শক্তিশালী। মুক্ত।
সকালে জেগে উঠে মনে হয় একটা সুন্দর জীবন থেকে একটা কঠিন বাস্তবতায় ফিরে এসেছি।
কোনটা আসল? দিনের সংগ্রামী আমি, নাকি রাতের উড়ে-বেড়ানো আমি?
হয়তো দুটোই সত্য। দুটো ভিন্ন মাত্রায়।
স্বপ্ন আমাদের দেখায় আমরা কী হতে পারি। বাস্তব দেখায় আমরা কী।
দুটোর মধ্যে সেতু তৈরি করতে পারলেই হয়তো পূর্ণ জীবন।
একটু ভাবনা রেখে যান