আজ আমার বার্ষিক চেকআপের দিন। আমি ভোর পাঁচটায় ঘুম থেকে উঠেছি। রক্ত পরীক্ষার জন্য খালি পেটে থাকতে হবে।
হাসপাতালে যাওয়ার পথে আমার বুক ধড়ফড় করছে।
আমি জানি না আজ কী পাওয়া যাবে। কোন রোগের নাম উঠবে রিপোর্টে।
গত বছর পেয়েছিলাম ডায়াবেটিস। তার আগের বছর হাই প্রেশার। এ বছর কী?
আমি ভাবি, প্রতি বছর কি একটা করে নতুন রোগ পাব? ক্যানসার? হার্টের রোগ? কিডনির সমস্যা?
রক্ত দেওয়ার সময় ভাবি, এই রক্তে লুকিয়ে আছে আমার ভবিষ্যৎ। কয়েক ঘণ্টা পর জানব আমি কতদিন বাঁচব।
এক্স-রে করাতে গিয়ে ভাবি, আমার ফুসফুসে কোনো দাগ আছে কি?
ইসিজি করাতে গিয়ে ভাবি, আমার হার্ট কি ঠিকমতো কাজ করছে?
প্রতিটি টেস্ট আমার কাছে মৃত্যুদণ্ডের রায়ের মতো।
ডাক্তার রিপোর্ট দেখে বলেন, “সব নরমাল। শুধু কোলেস্টেরল একটু বেশি।”
কোলেস্টেরল। আরেকটি নতুন শত্রু।
“এর মানে কী?”
“হার্ট অ্যাটাকের রিস্ক বাড়ে। ওষুধ খেতে হবে।”
আরেকটি ওষুধ আমার তালিকায় যুক্ত হল।
বাড়িতে ফিরে হ্যাপিকে বলি, “কোলেস্টেরল বেশি।”
“এটা কি খারাপ?”
“খারাপ।”
আমি জানি পরের বছর আরো কিছু পাওয়া যাবে।
এভাবে প্রতি বছর একটু একটু করে আমি জানতে পারব আমার শরীর কীভাবে ভাঙছে।
চেকআপ মানে এখন আর স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা নয়। চেকআপ মানে নতুন রোগ আবিষ্কার।
আমি ক্যালেন্ডারে পরের বছরের তারিখ দেখি।
আরো এক বছর পর কী পাব?
একটু ভাবনা রেখে যান