এই মাসে আমার চিকিৎসা খরচ বিশ হাজার টাকা।
ডাক্তার ভিজিট—তিন হাজার। ওষুধ—আট হাজার। টেস্ট—নয় হাজার।
আমার মাসিক আয় ত্রিশ হাজার। এর তিন ভাগের দুই ভাগ আমার অসুখে।
বাকি দশ হাজারে সংসার চালাতে হবে।
আমি হিসাব করি। বাড়ি ভাড়া আট হাজার। বাজার-সদাই পাঁচ হাজার। মাইনাস তিন হাজার।
আমার অসুখের কারণে পরিবারে টাকার টান।
হ্যাপি কিছু বলে না। কিন্তু আমি দেখি সে চিন্তিত।
আরাশের কোচিং বন্ধ করতে হয়েছে।
হ্যাপির শাড়ি কেনা বন্ধ।
আমার শরীরের ভাঙন আমাদের সংসারও ভাঙছে।
আমি ডাক্তারকে বলি, “একটু কম দামের ওষুধ দেন।”
“এগুলো জেনেরিক। এর চেয়ে কম দাম নেই।”
আমি মাঝে মাঝে ওষুধ কম খাই। টাকা বাঁচানোর জন্য।
হ্যাপি ধরে ফেলে।
“তুমি ওষুধ কম খাচ্ছ?”
“না তো।”
“মিথ্যা বলো না। আমি দেখেছি।”
আমি কী বলব? যে আমার চিকিৎসার খরচে সংসারে হাহাকার?
আমি ভাবি, আমি যদি অসুস্থ না হতাম?
আরাশ ভালো কোচিং পেত। হ্যাপি নতুন কাপড় পেত। আমরা মাসে একবার বাইরে খেতে যেতে পারতাম।
আমার শরীরে বিনিয়োগ করে পরিবার লোকসান করছে।
আমি একটা খরচা ঢেকা।
আরাশ একদিন বলেছিল, “বাবা, তুমি এত ওষুধ খাও কেন?”
আমি কীভাবে বলব যে এই ওষুধ না খেলে আরো বেশি খরচ হবে?
আমি কীভাবে বলব যে আমার বেঁচে থাকাটাই এখন একটা ব্যয়বহুল প্রজেক্ট?
আমি চাই তাড়াতাড়ি সুস্থ হতে।
কিন্তু জানি, এই রোগ সারবে না।
এই খরচ বাড়তেই থাকবে।
একটু ভাবনা রেখে যান