আজ সকালে খবরে দেখলাম আবার একটা বোমা বিস্ফোরণ। নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু। খবরের শেষে বলল, “সন্ত্রাসীরা ‘আল্লাহু আকবার’ বলে এই হামলা করেছে।”
আমার পুরো শরীর কেঁপে উঠল। যে কালিমা আমি প্রতিদিন শ্রদ্ধায় উচ্চারণ করি, সেই কালিমাই কিভাবে হত্যার হাতিয়ার হয়?
হ্যাপি পাশে এসে দাঁড়াল। “আবার?” জিজ্ঞেস করল। আমি মাথা নাড়লাম। কথা বলতে পারলাম না।
অফিসে গিয়ে দেখি সবাই আমার দিকে অন্যরকম চোখে তাকাচ্ছে। কেউ কিছু বলছে না, কিন্তু চোখে প্রশ্ন। “তোমাদের ধর্মে এমন কেন?”
আমি কী উত্তর দেব? আমি কিভাবে বলব যে, যারা এই কাজ করে তারা আমার ধর্মের কিছুই বোঝে না?
লাঞ্চের সময় করিম এসে বলল, “হায়দার ভাই, শুনেছি এই সব সন্ত্রাসীদের পেছনে বড় বড় ফান্ডিং আছে। বিদেশ থেকে টাকা আসে।”
“কোথা থেকে?” জিজ্ঞেস করলাম।
“যারা নিজেদের ‘ইসলামের রক্ষক’ বলে দাবি করে। তারা টাকা দিয়ে এই সব উগ্রপন্থী তৈরি করে।”
আমার বুকটা ভার হয়ে গেল। আল্লাহর নামে টাকা তুলে আল্লাহর সৃষ্টিকে মারা? এর চেয়ে বড় ব্লাসফেমি আর কী হতে পারে?
বাসায় ফিরে আরাশকে দেখি চুপচাপ বসে আছে। জিজ্ঞেস করলাম, “কী হয়েছে?”
“আব্বু, স্কুলে বন্ধুরা বলছে মুসলিমরা খারাপ। আমি কী বলব?”
আমার গলা বন্ধ হয়ে এলো। আমার ১১ বছরের ছেলেকে কিভাবে বোঝাব যে, যে ইসলাম আমরা শিখেছি আর যে ইসলামের নামে এই অন্যায় হচ্ছে সেগুলো এক না?
রাতে কুরআন খুলে পড়ি, “যে একজন মানুষকে হত্যা করল, সে যেন সমস্ত মানুষকে হত্যা করল।” আমার চোখে পানি এসে যায়।
ইন্টারনেটে দেখি অনেক ভিডিও। যুবকদের ব্রেইন ওয়াশ করা হচ্ছে। “জিহাদ” এর নাম করে। তাদের বলা হচ্ছে “এটাই ইসলাম।”
আমি চিৎকার করে বলতে চাই – না! এটা ইসলাম না! ইসলাম শান্তির ধর্ম! কিন্তু আমার আওয়াজ কে শুনবে?
বারান্দায় দাঁড়িয়ে ভাবি। যারা কোটি কোটি টাকা দিয়ে এই অন্যায়ের পৃষ্ঠপোষকতা করে, তারা কি জানে যে প্রতিটি নিরপরাধ মৃত্যুর জন্য তাদের জবাবদিহি করতে হবে?
মনে পড়ে বাবার কথা। উনি বলতেন, “ইসলাম মানে শান্তি। যেখানে অশান্তি, সেখানে ইসলাম নেই।”
আজ দেখি আমার ধর্মের নাম করে পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি অশান্তি হচ্ছে।
আমি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে জিজ্ঞেস করি – আমি কি সত্যিই মুসলিম? নাকি যারা বোমা ফাটায় তারাই আসল মুসলিম?
কিন্তু না। আমি জানি আমার আল্লাহ কখনো নিরপরাধ হত্যা চান না। তিনি চান ভালোবাসা, মানবতা।
তাহলে কেন আমার ধর্মের নাম এত কলঙ্কিত হচ্ছে? আমি কিভাবে এই দাগ মুছব?
একটু ভাবনা রেখে যান