ব্লগ

রোমান্সের জানাজা

নভেম্বর ২০২৫ · 3 মিনিটে পড়া
শেয়ার

রোমান্স মারা গেছে।

কবে মরেছে জানি না।

হয়তো প্রথম সন্তানের জন্মের দিন।

হয়তো প্রথম EMI র দিন।

হয়তো প্রথম চিকিৎসা বিলের দিন।

আমি জানাজায় যোগ দিইনি।

কারণ বুঝতেই পারিনি সে মরে গেছে।

রোমান্স চুপচাপ মরে।

শব্দ করে না।

একদিন দেখি সে নেই।

তার জায়গায় বাস্তবতা এসে বসেছে।

বাস্তবতা কুৎসিত।

কিন্তু দরকারি।

বাস্তবতা বলে:

“ফুল কিনলে ভাত কেনা যায় না।”

“কবিতা বললে বিল দেওয়া যায় না।”

“চাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকলে সংসার চলে না।”

বাস্তবতা সত্য কথা বলে।

কিন্তু সুন্দর কথা বলে না।

রোমান্স মিথ্যা কথা বলত।

কিন্তু সুন্দর কথা বলত।

“তুমি চাঁদের চেয়ে সুন্দর।”

“তোমার চোখে আমি স্বর্গ দেখি।”

“তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচতে পারব না।”

এখন আমি বলি:

“বিদ্যুৎ বিল দিয়েছ?”

“বাজার থেকে আসার সময় ওষুধ নিয়ে এসো।”

“গ্যাস শেষ, নতুন সিলিন্ডার অর্ডার দাও।”

এই কথাগুলো সুন্দর নয়।

কিন্তু প্রয়োজনীয়।

রোমান্স ছিল luxury।

বাস্তবতা হলো necessity।

আমি মাঝে মাঝে রোমান্সের কবর খুঁজি।

কোথায় শুয়ে আছে?

আলমারির কোণায়?

পুরনো চিঠির নিচে?

নাকি আমার হৃদয়ের গভীরে?

আমি তাকে জাগানোর চেষ্টা করি।

একদিন ফুল কিনে এনেছিলাম।

সে হেসেছিল।

কিন্তু বলেছিল, “কেন? কোনো অনুষ্ঠান?”

রোমান্স জাগেনি।

বাস্তবতা জিতেছে।

আমি কবিতা বলার চেষ্টা করেছিলাম।

সে শুনেছিল।

কিন্তু বলেছিল, “সুন্দর। এখন খেতে দাও।”

রোমান্স ফিরে আসেনি।

আমি চাঁদের রাতে তাকে ছাদে ডেকেছিলাম।

সে এসেছিল।

কিন্তু বলেছিল, “মশা কামড়াচ্ছে। চল নিচে যাই।”

রোমান্সের পুনরুত্থান হয়নি।

আমি বুঝেছি।

রোমান্স একবার মরে গেলে আর ফেরে না।

তার জায়গায় আসে অন্য কিছু।

সেটাও প্রেম।

কিন্তু ভিন্ন রকম প্রেম।

প্রয়োজনীয় প্রেম।

টিকে থাকার প্রেম।

রোমান্স ছিল কিশোর প্রেম।

বাস্তবতা হলো পরিণত প্রেম।

রোমান্সের জানাজা পড়ে বাস্তবতার জন্ম।

এটাই জীবনচক্র।

এটাই বিবর্তন।

এটাই বেড়ে ওঠা।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *