ব্লগ

শৈশবের রঙিন চশমা খুলে ফেলার মুহূর্ত

নভেম্বর ২০২৫ · 4 মিনিটে পড়া
শেয়ার

যেদিন আমার ছোট্ট পৃথিবীটা ভেঙে পড়েছিল


গতকাল আরাশ আমার কাছে এসে বলল, “বাবা, আমার বন্ধু বলেছে পৃথিবীর সব মানুষ খারাপ। এটা কি সত্যি?”

আমি চুপ করে গেলাম। কারণ আমার মনে পড়ে গেল সেই দিনগুলোর কথা যখন আমিও আরাশের মতো ভাবতাম পৃথিবী একটা fairytale।

ছোটবেলায় আমার পৃথিবী

সাত বছর বয়সে আমি দারুণ confident ছিলাম। আমার কাছে সব কিছু খুব সহজ ছিল।

পুলিশ দেখলে দৌড়ে গিয়ে সালাম দিতাম। ভাবতাম ওরা superhero। ডাক্তার মানে ভগবান। টিচার মানে সত্যের মূর্তি।

আমার মা বলত, “পড়াশোনা করলে ভালো চাকরি পাবি।” আমি বিশ্বাস করতাম। বাবা বলত, “সৎ থাকলে আল্লাহ ভালো রাখবেন।” আমি সেটাও বিশ্বাস করতাম।

কত সুন্দর একটা পৃথিবী ছিল আমার!

প্রথম ফাটল

ক্লাস এইটে আমাদের এক স্যার ছিল। খুব ভালো পড়াতেন। আমি ওনাকে অনেক respect করতাম।

একদিন দেখি উনি exam hall-এ কয়েকটা ছেলেকে নকল করতে সাহায্য করছেন। সেই ছেলেদের বাবারা নাকি উনাকে gift দিয়েছিল।

আমি বাড়ি এসে মাকে বলেছিলাম। মা বলেছিল, “এইসব কথা বাইরে বলিস না। স্যারের সাথে খারাপ হয়ে যাবে।”

সেদিন প্রথম মনে হয়েছিল – কিছু একটা ঠিক নেই।

দ্বিতীয় ধাক্কা

কলেজে আমার এক বন্ধু ছিল। নাম সোহেল। দারুণ ভালো ছেলে। পড়াশোনায় brilliant।

কিন্তু admission test-এ দেখি এমন কিছু ছেলে চান্স পেল যাদের result আমাদের চেয়ে খারাপ। পরে জানলাম তাদের বাবারা “ব্যবস্থা” করেছে।

সোহেল কেঁদে ফেলেছিল সেদিন। বলেছিল, “হায়দার, এত পড়ে কী লাভ?”

আমি বুঝতে পারছিলাম না কী বলব।

তৃতীয় ঘা

চাকরিতে ঢোকার পর দেখলাম আরও বড় ছবি। যারা সৎ, তারা পিছিয়ে থাকে। যারা “smart,” তারা এগিয়ে যায়।

আমার এক colleague বলেছিল, “হায়দার, তুমি অনেক naive। এভাবে চলবে না।”

“naive মানে?”

“মানে তুমি এখনো বাচ্চাদের মতো ভাবো যে merit দিয়ে সব হয়। আসলে connections আর compromises লাগে।”

সেদিন মনে হয়েছিল আমার চোখ থেকে একটা অদৃশ্য চশমা খসে পড়ল।

এখন যা দেখি

আজ ৩৯ বছর বয়সে আমি জানি:

কিন্তু জানেন কী? এই জানাটা আমাকে bitter করেনি। realistic করেছে।

আরাশকে কী বলব?

এখন যখন আরাশ আমার কাছে এসে বলে, “বাবা, সবাই কি সত্যিই খারাপ?” – আমি একটা দোটানায় পড়ি।

আমি কি তার রঙিন চশমা এখনই খুলে দেব? নাকি সে নিজেই আবিষ্কার করুক?

আমি ঠিক করেছি – আমি তাকে prepare করব। বলব, “আরাশ, পৃথিবী জটিল। কিন্তু এর মানে এই নয় যে সব আশা ছেড়ে দিতে হবে।”

“তুই সৎ থাকবি। কিন্তু smart-ও থাকবি। ভালো কাজ করবি। কিন্তু বুঝেশুনে করবি।”

শেষ কথা

আমার মনে হয় শৈশবের রঙিন চশমা খুলে ফেলা একটা জরুরি প্রক্রিয়া। কিন্তু এর পরেও আমাদের স্বপ্ন দেখা বন্ধ করা উচিত নয়।

আগে আমি ভাবতাম পৃথিবী perfect। এখন জানি এটা imperfect। কিন্তু এই imperfect পৃথিবীতেও ভালো কিছু করা সম্ভব।

রঙিন চশমা খুলে ফেলার মানে অন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। মানে clear vision পাওয়া।

আর clear vision নিয়ে এগোলে হতাশা কম হয়, অর্জন বেশি হয়।


আপনাদের রঙিন চশমা খোলার গল্প কী? কমেন্টে শেয়ার করুন।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *