দুপুরের বিরতি। অফিসের ক্যান্টিনে বসে খেতে যাব। পাশের টেবিলে জামিউর বসেছে তার লাঞ্চবক্স নিয়ে। খুলে দেখি ভাত, মাছ, আর সবজি। খুবই সাধারণ। আর আমার দিকে তাকিয়ে দেখি সাইফুল এনেছে পোলাও আর কোরমা। একটু দামি খাবার। অন্য এক টেবিলে রিফাত খাচ্ছে স্যান্ডউইচ। আর আমি? আমি এনেছি সাধারণ ভাত-ডাল।
এই মুহূর্তে আমার মনে যে ভাবনাগুলো আসে, সেগুলো নিয়ে নিজেই অবাক হই। “জামিউরের খাবার দেখে মনে হয় অনেক তেল-মসলা।” “সাইফুলের খাবার অনেক দামি, নিশ্চয়ই বাইরে থেকে কিনেছে।” “রিফাতের স্যান্ডউইচ স্বাস্থ্যকর মনে হচ্ছে না।”
কেন আমি এমন ভাবি? কেন অন্যের খাবার নিয়ে এত মতামত? যেন আমি একজন খাবারের বিচারক।
আল্লাহর কাছে লজ্জা লাগে এই চিন্তাগুলোর জন্য। “কেন আমি অন্যের খাওয়া-দাওয়া নিয়ে এত বিচার করি?”
আসলে এই বিচারের মধ্যে আমার নিজের অনিরাপত্তাও লুকিয়ে আছে। আমার খাবার কি যথেষ্ট ভালো? অন্যরা কী ভাবছে আমার খাবার দেখে?
জামিউর যখন তার মাছের তরকারি খায়, আমি ভাবি সেটা খুব তেলতেলে। কিন্তু হয়তো সেটা তার পরিবারের ভালোবাসার স্বাদ।
সাইফুলের পোলাও দেখে ভাবি সে বেশি খরচ করে। কিন্তু হয়তো তার স্ত্রী বিশেষ ভালোবাসা দিয়ে বানিয়েছে।
রিফাতের স্যান্ডউইচ দেখে ভাবি এটা পুষ্টিকর না। কিন্তু হয়তো তার কাছে এটাই সুবিধাজনক।
আর আমার সাধারণ ভাত-ডাল দেখে নিজেই ভাবি, “কত বোরিং খাবার!”
এই রুচির বিচার করার অভ্যাসটা কোথা থেকে এসেছে? হয়তো আমাদের সমাজেই এমন। আমরা সবকিছুতে তুলনা করি। খাবারেও।
কখনো কখনো মনে হয় এই বিচার আসলে কৌতূহল থেকে আসে। অন্যরা কী খায়, তা জানতে ইচ্ছা করে। কিন্তু সেই কৌতূহল পরিণত হয় বিচারে।
হ্যাপিকে বলেছিলাम, “অফিসে সবাই এত বিচিত্র খাবার আনে।” সে বলেছিল, “তুমি কেন অন্যের খাবার নিয়ে এত ভাব?”
আরাশও বলেছে, “আব্বু, আপনি স্কুলে আমাদের টিফিন দেখে কমেন্ট করেন না তো?” তার এই প্রশ্নে বুঝলাম এই অভ্যাস শিশুদের মধ্যেও ছড়াতে পারে।
এখন চেষ্টা করি অন্যের খাবার দেখে কোনো মন্তব্য না করতে। মনে মনেও না। প্রত্যেকের নিজস্ব পছন্দ আছে, পরিস্থিতি আছে।
কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয় এই রুচির বিচার সম্পূর্ণ বন্ধ করা যায় না। এটা মানুষের স্বাভাবিক প্রবণতা। গুরুত্বপূর্ণ হল এই বিচার যেন অন্যের প্রতি অশ্রদ্ধা বা ঘৃণায় পরিণত না হয়।
একটু ভাবনা রেখে যান