ব্লগ

শেষ ঠিকানা

নভেম্বর ২০২৫ · 2 মিনিটে পড়া
শেয়ার

কবরস্থানে পা রাখতেই মনে হয় – এইখানে আমারও একটা জায়গা বুক করা আছে। কোথায় সেটা জানি না, কবে যেতে হবে সেটাও জানি না। কিন্তু নিশ্চিত একটা ঠিকানা।

এই যে কবরগুলো দেখছি, এক এক করে পড়ছি নামগুলো – আব্দুল করিম (১৯৪৫-২০১৮), সালমা খাতুন (১৯৬০-২০২০), মোহাম্মদ রহিম (১৯৮৮-২০২১)। প্রতিটা নামের পাশে দুটো তারিখ। একটা জন্ম, একটা মৃত্যু। মাঝখানে একটা ড্যাশ (-) চিহ্ন।

পুরো জীবনটা সেই ড্যাশের মধ্যে। বছরের পর বছর, দিনের পর দিন, ঘন্টার পর ঘন্টা – সব মিলেমিশে একটা ছোট্ট ড্যাশ।

চলে যাওয়ার আগে এরা কী ভেবেছিল? কী পরিকল্পনা ছিল? কী স্বপ্ন ছিল? আর এখন? মাটির নিচে শুয়ে আছে, কোনো পরিকল্পনা নেই, কোনো স্বপ্ন নেই।

আমি হাঁটছি এই কবরগুলোর মধ্য দিয়ে। আমার পায়ের নিচে হয়তো কারো মাথা। কেউ হয়তো ভাবছে – এই যে হাঁটছে, এওতো আমার মতোই মানুষ। এরও একদিন এখানে আসতে হবে।

হঠাৎ থেমে গেলাম একটা ছোট কবরের সামনে। লেখা – “নূর আহমেদ (২০১৮-২০২১)”। মাত্র তিন বছর বেঁচে ছিল। তিন বছরের ড্যাশ।

মনে হলো – আমার এতক্ষণ যে চিন্তাভাবনা, এই তিন বছরের বাচ্চার কাছে সেগুলো কেমন লাগবে? জীবন কি শুধু দৈর্ঘ্যে মাপা হয়, নাকি গভীরতায়ও?

বাড়ি ফেরার সময় ভাবলাম – আমার কবরে কী লেখা হবে? “হায়দার (১৯৮৪-২০??)।” সেই প্রশ্নবোধক চিহ্নটা কবে পূরণ হবে?

আর সেই ড্যাশের মধ্যে কী থাকবে? কিছু ভালো কাজ? কিছু মন্দ কাজ? নাকি শুধুই দিন গুনে গুনে কাটিয়ে দেওয়া?

অস্থায়ী বাড়িতে ফিরে এসে ভাবি – স্থায়ী ঠিকানার জন্য কী প্রস্তুতি নিয়েছি?

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *