হ্যাপি ইলিশ মাছ রান্না করেছে। আমার প্রিয় খাবার। কিন্তু মুখে দিয়ে কোনো স্বাদ পাচ্ছি না।
“কেমন লাগছে?” হ্যাপি জানতে চায়।
“ভালো।” আমি মিথ্যা বলি।
আসলে কিছুই ভালো লাগছে না। যেন মুখে কাগজ চিবাচ্ছি।
গত কয়েক মাসে আমার খাবারের প্রতি কোনো আগ্রহ নেই। যা সামনে পড়ে, তা-ই খাই। কোনো তৃপ্তি নেই।
আমার মনে পড়ে ছোটবেলার কথা। মায়ের রান্না করা খিচুড়ির স্বাদ। দুপুরে ক্ষুধা লাগলে ভাতের থালার দিকে তাকিয়ে থাকা।
এখন খাবার দেখলে কোনো অনুভূতি নেই।
ডাক্তার বলেছেন, “বয়সের সাথে taste bud কমে যায়। স্বাদ কম পাওয়া স্বাভাবিক।”
স্বাভাবিক। কিন্তু আমার কাছে অস্বাভাবিক লাগে।
খাবার মানে তো শুধু পেট ভরানো না। খাবার মানে আনন্দ, উপভোগ, জীবনের স্বাদ।
সেই স্বাদ হারিয়ে গেছে।
আমি জোর করে খাই। কারণ শরীরের প্রয়োজন।
কিন্তু খাওয়ার আনন্দ নেই।
হ্যাপি নতুন নতুন রেসিপি চেষ্টা করে। মসলা বেশি দেয়। নুন বেশি দেয়।
কিছুই কাজ করে না।
আমার জিহ্বা মরে গেছে।
আমি ভাবি, জীবনের আর কোন কোন স্বাদ হারিয়ে যাবে?
সংগীতের স্বাদ? প্রকৃতির স্বাদ? ভালোবাসার স্বাদ?
ধীরে ধীরে আমি কি সব অনুভূতি হারিয়ে ফেলব?
আমি আরাশকে দেখি। সে খুশি মনে খাচ্ছে। প্রতিটি কামড়ে তার মুখে তৃপ্তি।
আমি ঈর্ষা করি।
তার কাছে খাবার এখনো আনন্দের বিষয়। আমার কাছে দায়সারা কাজ।
আমি চাই আবার স্বাদ পেতে।
কিন্তু জানি, এই হারানো স্বাদ আর ফিরবে না।
বার্ধক্য এভাবেই আসে। একটু একটু করে জীবনের স্বাদ কেড়ে নিয়ে।
একটু ভাবনা রেখে যান