ব্লগ

সেবা নেওয়ার লজ্জা

নভেম্বর ২০২৫ · 2 মিনিটে পড়া
শেয়ার

হ্যাপি আমার পা মাসাজ করছে। আমার কোমরে ব্যথার কারণে নিজে করতে পারি না।

আমার চোখে পানি এসে যায়। লজ্জায় নয়, অপমানে।

এই হাত দিয়ে হ্যাপি একসময় আমাকে স্পর্শ করত প্রেমে। এখন করে দায়িত্বে।

আমি যে পুরুষ হিসেবে তাকে রক্ষা করতাম, সেই পুরুষ এখন তার কাছে অসহায়।

আরাশ এসে আমার ওষুধ পানি নিয়ে দেয়।

“বাবা, খেয়ে নাও।”

এই ছেলে যার কাছে আমি ছিলাম সুপারম্যান, সেই ছেলে এখন আমার সেবা করে।

বাবা-ছেলের সম্পর্কে কী নিষ্ঠুর পরিবর্তন।

আমি ভাবি, আমার বাবা যখন অসুস্থ হয়েছিলেন, আমিও কি তাঁর সেবা করেছিলাম?

না। আমি ব্যস্ত ছিলাম নিজের জীবন নিয়ে।

আরাশ আমার চেয়ে ভালো সন্তান।

কিন্তু এই সেবা গ্রহণ করা আমার কাছে অত্যাচার।

আমি স্বাধীন থাকতে চাই। নিজের কাজ নিজে করতে চাই।

কিন্তু শরীর অমান্য করে।

টয়লেটে যেতে আরাশের সাহায্য লাগে।

খেতে হ্যাপিকে খাওয়াতে হয়।

ওষুধ খেতে দুজনকে মনে করিয়ে দিতে হয়।

আমি একটা বড় শিশু হয়ে গেছি।

কিন্তু শিশুরা ধীরে ধীরে স্বাধীন হয়। আমি ধীরে ধীরে পরনির্ভর হচ্ছি।

এই উল্টো যাত্রা আমাকে ভেঙে দিচ্ছে।

হ্যাপি বলে, “তুমি আমার জন্য কত কিছু করেছ। এখন আমার পালা।”

কিন্তু আমি চাই না কারো উপকার হতে।

আমি চাই উপকার করতে।

এই অসহায়ত্ব পুরুষত্বের চেয়েও বড় আঘাত।

এই নির্ভরশীলতা মৃত্যুর চেয়েও কষ্টকর।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *