ব্লগ

শিক্ষকের পরাজয়

নভেম্বর ২০২৫ · 3 মিনিটে পড়া
শেয়ার

আরাশ আজ আমাকে জিজ্ঞেস করল, “বাবা, black hole কী?”

আমি বলতে গিয়ে আটকে গেলাম। কারণ আমি জানি না।

ও বলল, “এটা এমন একটা জায়গা যেখানে gravity এত বেশি যে আলোও পালাতে পারে না।” তারপর যোগ করল, “Hawking radiation জানো?”

আমি না বলতে লজ্জা পেলাম।


এগারো বছরের এক ছেলে তার ঊনচল্লিশ বছরের বাবার চেয়ে বেশি জানে মহাবিশ্ব সম্পর্কে। এই বাস্তবতা মেনে নেওয়া কঠিন। কিন্তু এটাই আমাদের যুগের সত্য।

আমার বাবা আমার চেয়ে বেশি জানতেন। তার বাবা তার চেয়ে বেশি জানতেন। কিন্তু আমি আমার ছেলের চেয়ে কম জানি। এই ধারাবাহিকতা ভেঙে গেছে কোথায়?

প্রযুক্তির কোন মোড়ে আমি হারিয়ে গেছি? কোন মুহূর্তে আমি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছি?

আরাশের কাছে YouTube University আছে। আমার কাছে ছিল কেবল বই আর অভিজ্ঞতা। ও যা জানে তা systematic, আপডেটেড। আমি যা জানি তা fragmentary, outdated।

কিন্তু এই জানার পার্থক্য কি আমাদের দূরত্ব বাড়িয়ে দিচ্ছে? আমি কি আমার ছেলের কাছে irrelevant হয়ে যাচ্ছি?

গতকাল আরাশ climate change নিয়ে কথা বলছিল। Carbon footprint, renewable energy, sustainable development—এসব শব্দ ওর মুখে এত সাবলীল লাগে যে আমি অবাক হয়ে যাই। আমি যখন ওর বয়সে ছিলাম, তখন পরিবেশ মানে ছিল কেবল গাছপালা।

আমি বুঝি, তথ্য ও জ্ঞানের মধ্যে পার্থক্য আছে। আরাশের কাছে প্রচুর তথ্য আছে। কিন্তু সেই তথ্যকে জীবনের সাথে মিশিয়ে নেওয়ার যে প্রক্রিয়া, সেটা হয়তো আমার কাছে বেশি।

তবুও মাঝে মাঝে মনে হয়, আমি পিছিয়ে পড়ছি। আমার জ্ঞান পুরনো হয়ে যাচ্ছে। আমি যা জানি, সেটা আরাশের কাছে “বাবার জমানার” গল্প।

কিন্তু একদিন আরাশ আমাকে জিজ্ঞেস করল, “বাবা, মানুষ কেন কাঁদে?”

এবার আমি জবাব দিতে পারলাম। বললাম দুঃখের কথা, আনন্দের কথা, মানুষের আবেগের জটিলতার কথা।

আরাশ শুনল। মনোযোগ দিয়ে। তারপর বলল, “এইটা Google এ নেই।”

আমি বুঝলাম, আরাশ যত তথ্যই জানুক না কেন, ও এখনও আমার কাছে আসে মানবিক প্রশ্নের উত্তরের জন্য। Technology তাকে তথ্য দিতে পারে, কিন্তু অভিজ্ঞতার গভীরতা দিতে পারে না।

এই যুগে বাবা হওয়ার অর্থ পরিবর্তিত হয়েছে। আগে বাবা ছিলেন তথ্যের উৎস। এখন বাবা হলেন প্রজ্ঞার পথপ্রদর্শক।

আরাশ জানে black hole কী। কিন্তু জানে না ব্যর্থতার কালো গহ্বর কেমন অনুভূতি। ও জানে internet কীভাবে কাজ করে। কিন্তু জানে না মানুষের সাথে সংযোগ কীভাবে তৈরি হয়।

আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমি আরাশের সাথে তথ্যের প্রতিযোগিতায় নামব না। আমি ওকে দেব যা Google দিতে পারে না—জীবনের স্বাদ, অভিজ্ঞতার তিক্ততা-মাধুর্য, মানুষ হওয়ার জটিলতা।

তথ্যের যুগে আমি হয়ে উঠব প্রেমের শিক্ষক, ব্যর্থতার গাইড, জীবনের philosopher।

এবং এই ভূমিকায় আমি আরাশের চেয়ে এগিয়ে থাকব সবসময়।

hayder

লেখক। পর্যবেক্ষক। যে বিশ্বাস করে নীরব জিনিসগুলোরও একটা কণ্ঠস্বর থাকা উচিত।

আরও পড়ুন

একটু ভাবনা রেখে যান

Your email address will not be published. Required fields are marked *