দ্বিতীয় তলায় উঠতে গিয়ে কোমরে ব্যথা শুরু হল। তীব্র ব্যথা।
আমি সিঁড়ির মাঝখানে থেমে গেলাম।
আরাশ পিছন থেকে বলল, “বাবা, কী হয়েছে?”
“একটু কোমরে ব্যথা।”
আরাশ আমার হাত ধরে সাহায্য করল। একটা এগারো বছরের বাচ্চা তার বাবাকে সিঁড়ি দিয়ে তুলে নিয়ে গেল।
আমি লজ্জা পেলাম।
আগে আমি দৌড়ে সিঁড়ি ভাঙতাম। এখন হাঁটতেও কষ্ট।
কোমরের এই ব্যথা কয়েক মাস ধরে। ডাক্তার বলেছেন, “স্পাইনাল প্রবলেম। বয়সের সাথে হয়।”
বয়সের সাথে। আমার বয়স মাত্র ঊনচল্লিশ। এটা কি বুড়ো হওয়ার বয়স?
আমার মনে পড়ে আমার দাদার কথা। তিনিও কোমর ব্যথায় ভুগতেন। ধীরে ধীরে হাঁটতেন। লাঠি নিয়ে চলতেন।
আমিও কি সেই পথে?
অফিসে আমার সহকর্মীরা লিফট ব্যবহার করে। আমিও এখন লিফট ব্যবহার করি।
একসময় ভাবতাম, এইসব লোকরা অলস। এখন বুঝি তারা বাধ্য।
রাতে শোয়ার সময় কোমর ব্যথা বাড়ে। সোজা হয়ে ঘুমাতে পারি না। একপাশে কাত হয়ে শুতে হয়।
হ্যাপি বলে, “ম্যাসাজ করে দিই?”
আমি ম্যাসাজ করাই। কিছুক্ষণ আরাম লাগে। কিন্তু ব্যথা ফিরে আসে।
আমি ভাবি, এই ব্যথা সারাজীবন থাকবে?
আমি ফিজিওথেরাপিতে যাই। ব্যায়াম শেখাই। কিছুটা উপকার হয়। কিন্তু পুরোপুরি ভালো হয় না।
আমি এখন সিঁড়ি দেখলে ভয় পাই।
আরাশ প্রায়ই আমার হাত ধরে সিঁড়ি দিয়ে ওঠায়।
একদিন সে বলল, “বাবা, তুমি বুড়ো হয়ে গেছ?”
আমার বুকে তীর বিঁধল।
“না, শুধু একটু কোমর ব্যথা।”
কিন্তু আরাশের প্রশ্নটা আমার মনে গেঁথে গেল।
আমি কি বুড়ো হয়ে গেছি?
সিঁড়ি না ভাঙতে পারা কি বার্ধক্যের লক্ষণ?
আমি মেনে নিতে চাই না। কিন্তু শরীর মানে না।
কোমর বলে, “তুমি আর যুবক নও।”
একটু ভাবনা রেখে যান